Monday 13 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পোপের সঙ্গে ট্রাম্পের বাগ্‌যুদ্ধ, মার্কিন রাজনীতি ও ধর্মীয় অঙ্গনে তোলপাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৪ | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩৮

পোপ লিও চতুর্দশ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতিহাসের প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের মধ্যে নজিরবিহীন বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে পোপের সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প তাকে ‘উগ্র বামপন্থীদের অনুসারী’ এবং ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, পোপ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং শান্তির বাণী প্রচার করা তার ধর্মীয় দায়িত্ব।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) আলজেরিয়া সফরের পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ বলেন, ভ্যাটিকানের শান্তির আহ্বান বাইবেলের সুসমাচার বা ‘গসপেল’-এর ওপর ভিত্তি করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘শান্তি স্থাপনকারীরাই ধন্য’—এটাই তার বার্তা। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনার জবাবে তিনি জানান, যুদ্ধ নয়, শান্তির সেতুবন্ধনই তার ধর্মীয় দায়িত্ব এবং তিনি কোনো চাপকে ভয় পান না।

বিজ্ঞাপন

এর আগে রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোপকে ‘অত্যন্ত উদারপন্থী’, ‘দুর্বল’ এবং ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, পোপ কেবল মার্কিন বংশোদ্ভূত বলেই এ পদে এসেছেন এবং তিনি ‘র‍্যাডিক্যাল লেফট’-কে তুষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

ট্রাম্পের অভিযোগের মূল কারণ হলো পোপের সাম্প্রতিক মন্তব্য, যেখানে তিনি ইরান যুদ্ধের নেপথ্যে ‘সর্বশক্তিমান হওয়ার বিভ্রম’ কাজ করছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন একজন পোপ চাই না যিনি ভাবেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা ঠিক আছে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেন ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেন ট্রাম্প।

বাগ্‌যুদ্ধের মাঝেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেন। যেখানে তাকে যিশু খ্রিষ্টের মতো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের আঙুল থেকে আলো নির্গত হচ্ছে এবং তিনি একজন অসুস্থ ব্যক্তির ওপর হাত রেখে তাঁকে সুস্থ করছেন। এই ছবি এবং ট্রাম্পের যুদ্ধকে ‘ঈশ্বরের কর্ম’ হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি মার্কিন ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ইউএস কনফারেন্স অব ক্যাথলিক বিশপস-এর প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপ পল এস কোকলি ট্রাম্পের মন্তব্যে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘পোপ কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নন; তিনি খ্রিষ্টের প্রতিনিধি যিনি আত্মার শান্তির জন্য কথা বলেন।’

এদিকে, সিআইএ-র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের হাতে পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ থাকা এখন সারা বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক। ২৫তম সংশোধনী কার্যকরের মাধ্যমে তাকে সরাতে ইতিমধ্যে ৭০ জনেরও বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে পাকিস্তানে চলা শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। একদিকে পোপের শান্তির আহ্বান আর অন্যদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী অবস্থান—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন এবং ভ্যাটিকানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি পোপকে আক্রমণ করার ঘটনা আধুনিক ইতিহাসে বিরল।

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর