Friday 09 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় তৃতীয় দিনের মতো জেরা চলছে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৪ | আপডেট: ৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৪

জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহিদ আবু সাঈদ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহিদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৃতীয় দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তার জেরা চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ চলমান এ মামলায় মোট ৩০ জন আসামি রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে জেরা শুরু হয়। প্যানেলের অপর সদস্য জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে জেরা করেন। জেরার সময় তিনি মামলার তদন্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

বিজ্ঞাপন

এক পর্যায়ে টিটো দাবি করেন, এসআই মো. তরিকুল ইসলাম ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. আল ইমরান হোসেনকে মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন এ দাবি অস্বীকার করেন। প্রসিকিউশনের আপত্তিসহ প্রশ্নটি লিপিবদ্ধ করা হয়।

তাজহাট থানায় আবু সাঈদ হত্যা মামলার নথি পর্যালোচনা করেছেন কি না— এমন প্রশ্নে তদন্ত কর্মকর্তা সম্মতিসূচক উত্তর দেন। তবে ফরমাল চার্জ দাখিলের পরও তদন্ত অব্যাহত রাখার বিষয়ে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর প্রশ্নকে অপ্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে প্রসিকিউশন আপত্তি জানালে ওই প্রশ্ন আর গ্রহণ করা হয়নি।

এর আগে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) তদন্ত কর্মকর্তার দ্বিতীয় দিনের জেরা শেষ হয়। ৬ জানুয়ারি অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জেরা শুরু করেন। তিনি কনস্টেবল সুজন ও এএসআই আমির হোসেনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে কারাগার থেকে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন— এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

ভিসি হাসিবুর রশীদসহ আরও ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত চারজন আইনজীবী আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন করেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। ৩০ জুন অভিযোগ আমলে নেওয়ার আগে ২৪ জুন তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

সারাবাংলা/টিএম/ইআ