ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে শহিদ পরিবারগুলো।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিগ্যাল সেল সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ মাহফুজ। এ সময় জুলাই–আগস্ট আন্দোলনে নিহত বিভিন্ন শহিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত ভয়াবহ সহিংসতায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন। তারা ইতিহাসে শহিদ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে চানখারপুলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় শহীদ পরিবার গভীর উদ্বেগ ও হতাশার সঙ্গে গ্রহণ করেছে।
রায়ের বিষয়ে অসন্তোষের কারণ হিসেবে স্মারকলিপিতে চারটি বিষয় উল্লেখ করা হয়—
সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও রায়ে তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, যা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থি।
প্রিন্সিপাল অপরাধীদের পর্যাপ্ত শাস্তি না দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় ভবিষ্যতে এ রায় টিকে থাকবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
রায়টি জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়, যার ফলে প্রায় ১৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা চরমভাবে মর্মাহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন।
এ রায় ভবিষ্যতে নেতিবাচক নজির হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলতে পারে।
স্মারকলিপিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার প্রতি সম্মান জানাতে রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
এতে শহিদ মীর মুগ্ধর বড় ভাই মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্তসহ অন্যান্য শহিদ পরিবারের সদস্যদের সই রয়েছে।