ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, আজ বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তির বিচার বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালে চলছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন গুম ও খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বলপূর্বক অপহরণ ও গুমের মাধ্যমে মানুষ হত্যা করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তিনি একজন অত্যন্ত আলোচিত, মেধাবী ও দূরদর্শী সেনাপ্রধান ছিলেন। তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, কীভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে এর পেশাদারিত্ব ধ্বংস করা হয়েছে।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, একজন সেনাপ্রধান হিসেবে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ইকবাল করিম ভূঁইয়া যেসব উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা কীভাবে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি চক্রের মাধ্যমে ব্যাহত করা হয়েছে, সে বিষয়গুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি।
তিনি জানান, সাক্ষ্যে আরও বলা হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদ সৃষ্টি করে একটি ডিপ স্টেট গড়ে তোলা হয় এবং সেনাবাহিনীর কমান্ডের বাইরে আলাদা একটি কমান্ড স্ট্রাকচার তৈরি করা হয়। সেই কাঠামোর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর একটি অংশকে ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাবেক সেনাপ্রধান যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি তখন কর্নেল জিয়া নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি কীভাবে মানুষ হত্যা করেছেন এবং র্যাবের মাধ্যমে গুমের পর হত্যা কার্যক্রমে তার দক্ষতা ও বেপরোয়া মানসিকতা ছিল, সেসব বিষয়ও আদালতে তুলে ধরা হয়েছে।