ঢাকা: নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটির শুনানি গ্রহণ শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মুহম্মদ মিসবাহ উদ্দিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া। শুনানি শেষে ব্যারিস্টার মিসবাহ উদ্দিন জানান, আদালত আজ এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহম্মদ মিসবাহ উদ্দিন রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বৈধ নির্বাচনি প্রচারের সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় নারীরা, বিশেষ করে হিজাব পরিহিত নারীরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে হামলা, হয়রানি ও হুমকির শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো প্রতিরোধমূলক কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব ঘটনা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮ (বৈষম্য নিষিদ্ধ), ৩২ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা), ৩৬ (চলাচলের স্বাধীনতা), ৩৭ (সমাবেশের স্বাধীনতা), ৩৮ (সমিতির স্বাধীনতা) এবং ৪১ (ধর্মীয় স্বাধীনতা)–এর সরাসরি লঙ্ঘন। পাশাপাশি সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করার যে দায়িত্ব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি।
এর আগে, একই বিষয়ে আইনগত নোটিশ পাঠানো হয় নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মা সালমার পক্ষে আইনজীবী মুহম্মদ মিসবাহ উদ্দিন গত ২৯ জানুয়ারি এ নোটিশ পাঠান।
নোটিশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়। এতে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের ওপর হামলা, নিপীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে, যা সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।
নোটিশে আরও বলা হয়, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে হিজাব পরিহিত নারীরা সংগঠিত হামলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
এতে উল্লেখ করা হয়, এসব ঘটনা শুধু ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং সংবিধানের ২৮, ৩২, ৩৬, ৩৭, ৩৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকার। যেমন লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য থেকে মুক্তি, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা, চলাচল, সমাবেশ, সংগঠন এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতার মারাত্মক লঙ্ঘন।
এছাড়া সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে সহায়তা করা নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো প্রতিরোধমূলক, প্রতিকারমূলক কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।