ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্যও এ আদেশে সম্মতি জানান।
এ মামলায় গ্রেফতার দুই আসামিকে সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান এবং সাবেক এসআই শাহাদাত আলী। অন্য ৯ আসামি পলাতক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ডিএমপির তৎকালীন শীর্ষ ও মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন।
এদিন গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে পড়ে শোনানো হয়। অভিযোগে আবুল হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা ও কমান্ড রেসপনসিবিলিটিসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ৮ থেকে ১০ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ এবং শাহাদাত আলীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি মিথ্যা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে আন্দোলনকারীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ পাঠের পর দুই আসামির কাছে দোষ স্বীকার করবেন কি না জানতে চাওয়া হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং আগামী ২৯ মার্চ সূচনা বক্তব্যের দিন নির্ধারণ করেন।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে একাধিক প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতার দুই আসামির পক্ষে একজন আইনজীবী এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবীরা শুনানিতে অংশ নেন।
এর আগে, গত ২৮ জানুয়ারি প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া গেছে উল্লেখ করে ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র আমলে নেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে ইমাম হাসান তাইমকে হত্যা করা হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বন্ধু রাহাতকেও গুলি করা হয়। এসব ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, উসকানি ও প্ররোচনার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত তাইমের বাবা মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া পুলিশের একজন কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে উপ-পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।