রংপুর: রংপুরে অবৈধ মশলা উৎপাদন কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। ভেজালবিরোধী যৌথ অভিযানে কারখানার মালিক শরিফুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের নাজিরদহ গফুর টারী এলাকায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (রংপুর) কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের (রংপুর) উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অঙ্কন পাল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাপিয়া সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাজা ঘোষণা করেন।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ওই কারখানায় গোল মরিচে ওজন বাড়ানোর জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত রং, খয়ের ও ময়দা মিশিয়ে ভেজাল মশলা তৈরি করা হচ্ছিল। এসব ভেজাল উপাদান মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অভিযানের সময় কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং উৎপাদিত ভেজাল মশলা মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘অভিযানে গোল মরিচে কেমিক্যাল মিশ্রণের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারা অনুযায়ী ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তিনি জানান, এ অভিযান রংপুর অঞ্চলে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ। সম্প্রতি রংপুরে একাধিক ভেজালবিরোধী অভিযানে অবৈধ খাদ্য কারখানা বন্ধ করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়রা এ ধরনের কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছে।