ঢাকা: উচ্চ আদালতে রিট করায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দুই কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে ‘শাস্তিমূলক’ বদলি করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে বিটিআরসির নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দাখিল করার জেরে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিটিআরসির মানবসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা শাখার অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের একজন হলেন- উপ-পরিচালক সনজিব কুমার সিংহ; তাকে এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড ইন্সপেকশন ডিরেক্টরেট থেকে রংপুর মনিটরিং স্টেশনে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া, উপ-পরিচালক এস এম আফজাল রেজাকে স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে সিলেট মনিটরিং স্টেশনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এই কর্মকর্তারা অনতিবিলম্বে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হবেন। অন্যথায় আগামী ২ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) অপরাহ্নে তারা বর্তমান বিভাগ বা দফতর হতে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ বলে গণ্য হবেন।
উল্লেখ্য যে, সনজিব কুমার সিংহকে গত একবছরে হয়রানির উদ্দেশ্যে একাধিবার বিভিন্ন বিভাগ ও শাখায় বদলি করা হয়েছে।
সূত্রমতে, বিটিআরসির আওয়ামীলীগ আমলের কিছু বিতর্কিত নিয়োগ ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে এই কর্মকর্তারা সম্প্রতি উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেছিলেন। বিটিআরসির অভ্যন্তরীণ একটি পক্ষ এবং খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই তড়িঘড়ি করে তাদের ঢাকার বাইরে বাইরে বদলি করে ‘শাস্তি’ দেওয়া হলো।
বিটিআরসি কর্তৃপক্ষের এই আদেশকে ঘিরে টেলিকম খাতে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বিটিআরসির কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে বা সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করার অধিকার রয়েছে। সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া একটি বৈধ আইনি প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র মামলা করার কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়াকে ‘আদালত অবমাননা’ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।