ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মামলায় অতিরিক্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পেছানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আদালতে নতুন দিন ধার্য করেছেন। প্রতিবেদনের নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৯ এপ্রিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা এদিন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এর আগে, ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন দাখিল করেছিলেন। আদালত তার নারাজি মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর হাদি মতিঝিলে নির্বাচনী প্রচারণার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা তাকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হাদির মৃত্যু ঘটে ১৮ ডিসেম্বর।
হাদিকে হত্যাচেষ্টা ও হত্যার মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার ও হত্যায় সহায়তা।
প্রাথমিক তদন্তে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ জানান, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া আসামিরা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি এবং ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনি প্রচারে হস্তক্ষেপ করেছিল।
মামলার অভিযোগপত্রে মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং তার কয়েকজন সহযোগী পলাতক রয়েছেন।