Thursday 01 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফিরে দেখা ২০২৫
ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা থাকলেও রেমিট্যান্স ছিল ইতিবাচক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৮

সালতামামি ২০২৫। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: ২০২৫ সাল বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে অস্থির, আলোচিত ও সংকটপূর্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংক দখল, ঋণের নামে অর্থ লুটপাট, গোপন খেলাপি ঋণের তথ্য উন্মোচন এবং অর্থপাচারের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে থাকে। এসব বাস্তবতায় ব্যাংক খাতে বড়ধরনের সংস্কার ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত

পতিত সরকারের সময়ে লুটপাটে বিপর্যস্ত পাঁচটি দুর্বল শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক রক্ষায় একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আওতায় এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংককে নিয়ে গঠন করা হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।

বিজ্ঞাপন

তবে বছরজুড়ে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত আমানতকারীরা এক টাকাও ফেরত পাননি। একইসঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ায় এসব ব্যাংকের শেয়ার শূন্য ঘোষণা করায় পুঁজি ফেরতের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নামেন শেয়ারহোল্ডাররা। ফলে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়।

খেলাপি ঋণে বিশ্ব রেকর্ড

২০২৫ সালে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল খেলাপি ঋণের ভয়াবহ উল্লম্ফন। হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। একবছর আগেও খেলাপি ছিল প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা, যা ছিল মোট ঋণের ১৭ শতাংশ।

এদিকে কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আগের সরকারের সময় রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বিতরণ ও কাগজে-কলমে নিয়মিত দেখানোর কৌশল ভেঙে পড়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে উঠে এসেছে।

রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন, ডলার বাজারে স্থিতি

সংকটের মধ্যেও ইতিবাচক দিক ছিল রেমিট্যান্স প্রবাহ। ২০২৫ সালে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ফলে ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা আসে। চলতি বছর ডলারের দর ছিল ১২২ থেকে ১২৩ টাকা। এবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি নীতি

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি, ঋণপ্রবাহ সীমিতকরণ ও সুদহার বৃদ্ধি করা হয়। এর প্রভাবে বছর শেষে মূল্যস্ফীতি নেমে আসে প্রায় ৮ শতাংশে, যা একবছর আগে ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক হয়নি।

ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ পাস

২০২৫ সালের অন্যতম বড় সংস্কার উদ্যোগ ছিল ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ পাস। ফলে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন হলে আমানত বিমার আওতায় গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পাবেন, যা আগে ছিল একলাখ টাকা।

এ ছাড়া বছরজুড়ে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন, খেলাপি ঋণ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ৯০ দিনে নির্ধারণ এবং তদারকি ও সুশাসন জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।