Thursday 01 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রাথমিকে বইয়ের উৎসব, অপেক্ষার প্রহর মাধ্যমিকে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৬

নতুন পাঠ্যবই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাসে মেতেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: নতুন বছরের প্রথম দিনেই নতুন পাঠ্যবই হাতে পেয়ে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বছরের প্রথম সকালেই নতুন বইয়ের সুবাসে রঙিন হয়ে উঠেছে তাদের শিক্ষাজীবন। তবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা বই পেলেও মাধ্যমিক স্তরে দেখা দিয়েছে বই সংকট। অনেক শিক্ষার্থী চাহিদামতো বই না পাওয়ার অভিযোগ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর ইসিবি, মিরপুর ও আগারগাঁও এলাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয় ঘুরে বই বিতরণে এমন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।

সকাল থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষকরা রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন। বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা উৎসব না থাকলেও রোল নম্বর অনুযায়ী সুশৃঙ্খলভাবে বই বিতরণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব বিষয়ের বই সময়মতো পৌঁছে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ।

অন্যদিকে, প্রাথমিক স্তরে বইয়ের কোনো সংকট না থাকলেও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের এখনো পুরোপুরি বই পাওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। অনেক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির কিছু বই পৌঁছালেও সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

কোনো কোনো বিদ্যালয়ে গড়ে মাত্র দুই থেকে তিনটি করে বই এসেছে। ফলে শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে—কাকে কতটি বই দেওয়া সম্ভব হবে তা নির্ধারণ করতে। অনেক শিক্ষার্থী বই পাওয়ার আশায় বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত বই না পাওয়ায় হতাশ মুখে বাড়ি ফিরেছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৮ কোটি ৫৯ লাখ বইয়ের শতভাগই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের জন্য নির্ধারিত ১৮ কোটি ৩২ লাখ কপির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬ শতাংশ বই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, বাকি ৪৪ শতাংশ বইয়ের মুদ্রণ ও সরবরাহকাজ দ্রুত গতিতে চলছে।

এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছে, বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো সম্ভব না হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাকি বইগুলো বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

সারাবাংলা/এনএল/এমপি