ঢাকা: রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পিঠা উৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকা-৮ আসনের এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা তদন্তে নামছে ‘নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে রমনা থানা পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
প্রতিবেদনে যা বলেছে পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ:
রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া লিখিত প্রতিবেদনে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও কলেজ অধ্যক্ষ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাদের বর্ণনায় উঠে আসে সেই দিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির চিত্র:
অননুমোদিত রাজনৈতিক উপস্থিতি: হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের অধ্যক্ষ ইমরুল কায়েস জানান, পিঠা উৎসবটি ছিল সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ। কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা বহিরাগত কাউকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায়নি। এমনকি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রচারের সুযোগও ছিল না।
গোয়েন্দা তথ্যে পুলিশের সতর্কতা:
পুলিশ জানায়, ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উভয়েই উৎসবে যোগ দেবেন-এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক ছিল। উভয় পক্ষকে সংঘর্ষ এড়াতে উৎসবে আসতে নিরুৎসাহিত করেছিল রমনা থানা পুলিশ।
পাল্টাপাল্টি জমায়েত:
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ক্যাম্পাসে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের তথ্যমতে, ক্যাম্পাসে তখন প্রায় ৩০০০ শিক্ষার্থী ছাড়াও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমর্থনে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির ও এনসিপির কর্মী এবং মির্জা আব্বাসের সমর্থনে ছাত্রদল ও বিএনপির কর্মীদের বিশাল জমায়েত ছিল।
বক্তব্যের সময় হামলা:
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কলেজের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও পানি নিক্ষেপ করে এবং স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নির্বাচনি বিধিমালার কড়াকড়ি
উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা প্রচারে নেমেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো জনসভা বা কর্মসূচির বিষয়ে ২৪ ঘণ্টা আগে স্থানীয় পুলিশকে জানানোর বিধান রয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার এই ঘটনাটি নির্বাচনি আচরণবিধির কোনো ধারা লঙ্ঘন করেছে কি না, তা এখন নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির সিভিল জজ মো. শামসুল হক খতিয়ে দেখবেন।
বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রমনা থানা পুলিশ।