Thursday 05 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ঠেকাতে ইসি’র ‘একগুচ্ছ’ পদক্ষেপ

‎স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:১৯ | আপডেট: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:২০

ঢাকা: ‎আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার ও রোহিঙ্গাদের নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ঠেকাতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কা করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

‎বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম সই করা এক চিঠিতে এই কঠোর নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

‎রোহিঙ্গাদের ঘিরে যেসব ঝুঁকি

বিজ্ঞাপন

‎গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু রোহিঙ্গা অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করায় তারা ভোট প্রদান বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থীরা রোহিঙ্গাদের প্রচারণায় ব্যবহার করতে পারেন,  অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের দিয়ে জাল ভোট দেওয়ানোর ঝুঁকি রয়েছে, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং আরসা (ARSA), আরএসও (RSO)-এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং ক্যাম্পের ভেতরে সক্রিয় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।

‎ইসি’র গৃহীত পদক্ষেপ

নির্বাচন কমিশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে।

  • চলাচল নিয়ন্ত্রণ: নির্বাচনের আগে ও পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বাইরে বের হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এপিবিএন চেকপোস্টগুলোতে শতভাগ পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি জোরদার করা হবে।
  • যানবাহন চলাচল বন্ধ: নির্বাচনের আগের দিন ও ভোটের দিন ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সব ধরনের যান (সিএনজি, অটো, মোটরবাইক) চলাচল বন্ধ থাকবে।
  • সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ: নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে থেকে ক্যাম্পে সব ধরনের সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থগিত থাকবে। মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে যাতে রোহিঙ্গারা নির্বাচনে সম্পৃক্ত না হয়।
  • বাজার ও এনজিও নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত জনসমাগম এড়াতে ক্যাম্প সংলগ্ন বড় বাজারগুলো (বালুখালী, লেদা, নয়াপাড়া) নির্বাচনের সময় সাময়িক বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া এনজিও কর্মীদের ক্যাম্প পরিদর্শন সীমিত করা হবে।
  • যৌথ নিরাপত্তা ও মোবাইল কোর্ট: ক্যাম্পে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অধীনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। বিজিবি ও এপিবিএন সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে।
  • ‎ভোটের সময় ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা সাতদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, ভোটের চার দিন আগে থেকে শুরু করে ভোটের পরের দুই দিন পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।

এবারের নির্বাচনে দেশের পৌনে ১৩ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের আড়াই লাখ ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা আছেন ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার থোকবেন ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৪ জন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর