রংপুর: নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট সহায়ক পরিবেশ রয়েছে এবং এবার কোনো ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে রংপুর সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য এবং রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রায় ১৮ লাখ নির্বাচনি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসার—সবাই একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
নির্বাচনি পরিবেশ ও চাপমুক্ত অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো চাপ নেই। তবে নির্বাচনকে সহজ ও গ্রহণযোগ্য করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। আমাদের স্পষ্ট বার্তা—নির্বাচন প্রতিকূলে যায় এমন কোনো কার্যক্রম আমরা সমর্থন করি না। সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনগণকেও তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোটের সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বড় দুই দলের নেতারা সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দলের নেতারা পোস্টার অপসারণ ও সফর বাতিল করেছেন।’
সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিন্দা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা ভোটযুদ্ধের অংশ এবং রাজনৈতিক কৌশল। তবে দেশের সব ধরনের সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের আমরা নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদির হত্যার ঘটনাও নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল হোসেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।