Monday 09 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ইরান, বাণিজ্য-বিনিয়োগে জোর

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৫

নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন ও ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদিসহ অন্যান্যরা।

ঢাকা: বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, কৃষি, পরিবহন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তিসহ নানা খাতে সহযোগিতার বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে তেহরান।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকায় ইরান দূতাবাস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক, ইসলামি চিন্তাবিদ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেন, প্রাচীন সভ্যতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানসমৃদ্ধ ইতিহাসের অধিকারী দেশ ইরান বরাবরই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখে আসছে। জটিল নানা চ্যালেঞ্জের মুখেও আত্মবিশ্বাস, স্থিতিশীলতা ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি।

তিনি বলেন, ইরান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বিশেষ ও মূল্যবান অবস্থানে রয়েছে। দুই মুসলিম ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। বিশেষ করে ফারসি ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া ও ইসলামি বিশ্বে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্র বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে অর্থনৈতিক কূটনীতি একটি প্রধান স্তম্ভ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সক্ষমতা পরস্পর পরিপূরক। বেসরকারি খাতের ভূমিকা জোরদার, বাণিজ্যিক ব্যবস্থার সহজীকরণ এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাস্তব সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়ে আরও উচ্চমাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ব্যাপক ও অন্যায্য চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব চাপ কখনোই ইরানি জাতিকে অগ্রগতির পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। নিজস্ব সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদের ওপর ভর করে প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প, চিকিৎসা ও অবকাঠামো খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ইরান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, আত্মনির্ভরতা, সহনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিই ইরানি জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও লাভজনক সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশসহ বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত ইরান।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংলাপ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাই টেকসই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সর্বোত্তম পথ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং আগের আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরও ইরান ভারসাম্যপূর্ণ আলোচনাকেই সমঝোতার সর্বোত্তম পথ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ও প্রতিরোধ সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ইরানের জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ, স্থিতিশীল সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পারস্পরিক সক্ষমতা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে দুই দেশের জনগণের জন্য আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইরান এমন একটি দেশ, যা হাজার বছরের সভ্যতার ধারক। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য ও শিল্পে ইরানের অবদান অনন্য। ইরানের সংস্কৃতি এ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে শত শত বছর ধরে ভাগাভাগি হয়ে আসছে।

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক উপভোগ করে আসছে। দুই দেশ বহুপক্ষীয় ফোরামে একযোগে কাজ করছে। আমরা আশা করি, আগামী দিনে ইরান শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে আরও এগিয়ে যাবে।

সারাবাংলা/একে/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর