ঢাকা: আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের দিন প্রতি ২ ঘণ্টা পরপর কত ভোট পড়েছে, সেই পরিসংখ্যান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানোর কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের সই এক বিশেষ নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।
ইসির ওই নির্দেশনায় বলা হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং ভোটগ্রহণে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই আধুনিক ড্যাশবোর্ড ও অ্যাপের ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ওই নির্দেশনাতে আরও বলা হয়, ভোটগ্রহণের দিন প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর অন্তর কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের সংখ্যা আপডেট করতে হবে। প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় নিয়োজিত ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা ইএমএস (Election Management System) অ্যাপে লগইন করে কেন্দ্রের তথ্য ইনপুট দেবেন। অপারেটরদের এন্ট্রি করা তথ্য সহকারী রিটার্নিং অফিসার যাচাই করে অনুমোদন করবেন। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর রিটার্নিং অফিসার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ‘Kopot Dashboard’-এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
ইসির সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ২ হাজার ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র এবং বাকিরা ৫১টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী। এবার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি। আর ভোটকক্ষের (বুথ) সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। গড়ে প্রতি ৩ হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসি আরও জানিয়েছে, ওই দিন নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবেন মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।