Wednesday 11 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যেসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩২

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারি এক যোগে ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। শেষ মুহূর্তে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দুটি জোট নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও মাঠে রয়েছে বেশ কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী। এদের সংখ্যা ২৪৯ জন। এরা কেউ কেউ স্বতন্ত্র হলেও কেউ আবার বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র নামে পরিচিত। অর্থাৎ বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তারা ভোটের মাঠে নেমেছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। দলের সমর্থন ছাড়া নির্বাচন করে এদেশে সুবিধা করা যায় না। কিন্তু এবারের নির্বাচনে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তারা অনেকে বিজয়ী হয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যেসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভালো করতে পারেন তাদের মধ্যে রয়েছেন-

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ): আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সাতটি আসন পাওয়ায় তাদেরকে সংরক্ষিত নারী আসনে একজন সংসদ সদস্য দেওয়া হয়েছিল, তখন বিএনপির পক্ষ থেকে রুমিন ফারহানাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ওই সংসদে বিএনপির পক্ষে রুমিন ফারহানা ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। কিন্তু, ৫ আগস্ট পরবর্তী মিডিয়ায় দলের বিরুদ্ধে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য এবং জমিয়তের উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে জোট ধরে রাখার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আসনটি জোট নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। এদিকে দীর্ঘদিন ভোটের মাঠে থাকার কারণে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মাঠে রয়েছেন। স্থানীয়দের ধারণা, এই আসনটিতে রুমিন ফারহানা বিজয়ী হয়ে আসতে পারেন। ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধাও রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনের মাঠ ছেড়েছেন।

বাগেরহাট-১ (চিতলমারী–ফকিরহাট–মোল্লাহাট): বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম একাই বাগেরহাটের তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তিনি সিলভার লাইন গ্রুপের মালিক। ২০০১ সালে বিএনপির হয়ে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বাগেরহাট–২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একসময়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি। ধারণা করা হচ্ছে এই আসনটিতে এম এ এইচ সেলিম বিজয়ী হতে পারেন।

ঢাকা-১২ (তেজগাঁও): আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে জোটের প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে। এই আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে লড়াইয়ে বিজয়ী হতে পারেন সাইফুল আলম নীরব এমনটি ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

ঝিনাইদহ-৪(কালীগঞ্জ-সদরের আংশিক): বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন। ফলে এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীগণ অধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করা সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান (ধানের শীষ) ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর সঙ্গে ত্রিমূখী লড়াই হবে। এখানে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বিজয়ী হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

নড়াইল-২ (নড়াইল সদরের একাংশ ও লোহাগড়া): আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে এনপিপি থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। যাকে দল বহিষ্কার করেছে। জামায়াত-বিএনপি-স্বতন্ত্র। ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।

মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর): আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের অবস্থান ভালো বলে জানা গেছে। এখানে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতনকে। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন জেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দল তাকে বহিষ্কার করেছে।

পটুয়াখালি-৩ (দশমিনা-গলাচিপা): আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে। এই আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এখানে বিএনপি-জামায়াত-স্বতন্ত্র ত্রিমুখী লড়াই হবে। হাসান মামুন বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে ধানের শীষ পেয়েছেন আমজনতার দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া দল থেকে বহিষ্কৃত হন। জানা গেছে, তৃণমূল বিএনপির পদধারী সাবেক নেতা এবং সাধারণ কর্মীরা সুজাত মিয়ার সঙ্গে রয়েছেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে স্বতন্ত্র বিজয়ী হতে পারেন।

চাঁদপুর-৪ আসনে দলের রাজস্ব ও ব্যাংকিংবিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশীদকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। জেলার সর্বাধিক প্রবাসী অধ্যুষিত এ আসনটি বিএনপির অপ্রতিদ্বন্দ্বী দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির (সদ্য বহিষ্কৃত) সভাপতি এম এ হান্নান মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। এমএ হান্নানের অনুগতদের বিশ্বাস, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে তারা ধানের শীষের মোকাবিলা করবেন। এ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট করছেন বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। তবে সাধারণ ভোটারদের ধারণা, এ আসনে লড়াই হবে বিএনপি বনাম বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার বিএনপিতে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করে সারাবাংলাকে বলেন, আমার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। আশা করি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় সম্প্রতি তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখানে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুলকে।

এছাড়াও ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ- ১০ ময়মনসিংহ- ১১, নেত্রকোণা-৩, কিশোরগঞ্জ-১, মানিকগঞ্জ-১, নওগাঁ-৬, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর- ২, টাঙ্গাইল-৩, টাঙ্গাইল-৫, সুনামগঞ্জ-৩, নারায়ণগঞ্জ-৩, পাবনা-৬ আসনগুলিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ত্রিমুখী লড়াই গড়ে তুলে বিজয়ী হতে পারেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

যেসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩২

আরো

সম্পর্কিত খবর