ঢাকা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন, আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ভোটগ্রহণে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। ভাষণে তিনি গণতন্ত্রের স্বার্থে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিইসি এই আহ্বান জানান।
ভাষণের শুরুতেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি।” তিনি আহত যোদ্ধাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তাদের ত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
তিনি বলেন, ভোটদানকে কেবল অধিকার নয়, বরং একটি বড় দায়িত্ব। এসময় তিনি আরো বলেন, সব ভোটারকে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। সে সঙ্গে ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয়কে মেনে নেওয়াই প্রকৃত রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলেও জানান সিইসি।
এ সময়, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কষ্ট তুচ্ছ করে জাতীয় এই মহতী লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবিলায় বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত সংস্থাকে সহায়তা করার জন্য তিনি ভোটার ও প্রার্থীদের অনুরোধ জানান।
পরিশেষে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সাক্ষী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আগামীকাল সকাল থেকেই দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণী এই নির্বাচনকে সার্থক করে তুলবে বলে বিশ্বাস ব্যক্ত করেন তিনি।