ঢাকা: বাংলাদেশের এবারের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (অ্যানফ্রেল)।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান রোহানা এন. হেত্তিয়ারাচ্চি।
তিনি বলেন, তরুণ ও নারী ভোটারদের আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। একই সঙ্গে ভোট গণনা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনি প্রচারে যে ব্যয় হয়েছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দেন রোহানা এন. হেত্তিয়ারাচ্চি। পাশাপাশি তিনি বলেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব হবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করেছে রাশিয়ান ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। কমিশনার পাভেল আন্দ্রিভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সফর করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
পর্যবেক্ষকরা জানান, ভোটগ্রহণে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি ছিল দৃঢ় এবং ভোটারদের আগ্রহও ছিল উল্লেখযোগ্য। পরিদর্শন করা প্রতিটি কেন্দ্রে জাতীয় আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে সু-প্রশিক্ষিত পদ্ধতিতে ভোট পরিচালিত হয়েছে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা প্রস্তুত ছিলেন এবং কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করেছেন। ভোটগ্রহণে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশ বিরাজ করেছে। পোলিং অফিসাররা দলীয় পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বচ্ছতা ও তদারকি নিশ্চিত করেন।
অ্যানফ্রেল বলছে, দীর্ঘমেয়াদি আস্থার জন্য শাসনব্যবস্থার প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের স্থগিতাদেশ অন্তর্ভুক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জনমতকে প্রভাবিত করেছে। আর গণভোটের ফলাফল জুলাই সনদের অধীনে সংস্কার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা জোরদার করেছে।
সংস্থাটির অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভোটের দিনের অর্জিত আধা টেকসই হবে তখনই, যখন নির্বাচন-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা পুনর্মিলনের লক্ষ্যে রূপান্তরকালীন ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেবে। যা হবে বিধিনির্ভর জবাবদিহিতাভিত্তিক-এর মধ্যে কার্যকর রাজনৈতিক ও প্রচার অর্থায়ন তদারকি, সুস্পষ্ট অভিযোগ বাবস্থাপনা এবং পৃষ্ঠপোষকতা, জবরদস্তি ও পুনরাবৃত্ত রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রণোদনা হ্রাসে প্রযোজনীয় সংস্কার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যানফ্রেল বলছে, ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারে।
আওয়ামী লীগ ছাড়া ভোটের উপস্থিতি কম কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রোহানা এন. হেত্তিয়ারাচ্চি বলেন, আমাদের বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হয়েছে। কারণ আমরা এমন ভোটার পেয়েছি যারা এবার প্রথম বারের মতো ভোট দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ বছরের অনেকেই রয়েছেন।