ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট পবিত্র রমজান মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের লক্ষ্য, ঈদুল ফিতরের আগেই এই নির্বাচনের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমান মাসুদ এ তথ্য জানান।
নির্বাচন কমিশনার জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে কমিশনে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আমরা রোজার মধ্যেই এই নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছি। ইচ্ছা আছে ঈদের আগেই পুরো কার্যক্রম শেষ করার।
আইনি বাধ্যবাধকতা ও বণ্টন পদ্ধতি
সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী
সাধারণ আসনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের সংখ্যানুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।
- কোনো দল বা জোট যদি একাধিক আসনে জয়লাভ করে, তবেই তারা নারী আসন পাওয়ার যোগ্য হয়।
- স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এককভাবে কোনো নারী আসন পান না (সাধারণত জোটবদ্ধ হয়ে দাবি করতে হয়)।
আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে ভগ্নাংশ দশমিক ৫ বা তার বেশি হলে সেটিকে ১টি আসন ধরা হয়; এর কম হলে তা হিসেবে আসে না।
দলের অবস্থান ও প্রার্থী মনোনয়ন
নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মনোনীত নারী প্রার্থীদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। এই তালিকা সংশ্লিষ্ট দলের দলীয় ফোরামে অনুমোদিত হতে হয়। তালিকার বাইরে থেকে কারও নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নেই।
ত্রয়োদশ সংসদের বর্তমান চিত্র
গত নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে সংরক্ষিত ৫০টি আসনের বণ্টন নির্ধারিত হবে। সংসদে দলগুলোর বর্তমান অবস্থান-
বিএনপি: ২০৯টি আসন
জামায়াতে ইসলামী: ৬৮টি আসন
এনসিপি: ৬টি আসন
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ২টি আসন
অন্যান্য (১টি করে আসন): ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস।
জাতীয় পার্টিসহ বাকি ৪১টি দল কোনো আসন পায়নি।