ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ শেষ হতেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এমনকি প্রয়োজন হলে ঈদের আগেই এই প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ এসব তথ্য জানান।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হুট করে করা যায় না, এর জন্য পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য রাখা যায় না। তাই কোনো কারণে পদটি শূন্য হলে আমাদের দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যদি কোনো বর্তমান সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবে তার আসনটি শূন্য হবে। সেক্ষেত্রে সেখানে আবার উপ-নির্বাচনের প্রয়োজন পড়বে। সব মিলিয়ে আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি রাখছি।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সম্প্রতি তিনি একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমান দায়িত্ব পালনে তিনি আর স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না এবং নতুন নির্বাচিত সরকার অনুরোধ করলে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ডাকার পর যদি পদত্যাগ করেন বা তাকে অপসারণ করা হয়, তবেই নতুন নির্বাচনের পথ তৈরি হবে।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ তিনটি উপায়ে শূন্য হতে পারে
১. পদত্যাগ ও মেয়াদকাল (অনুচ্ছেদ ৫০): রাষ্ট্রপতি তার কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর মেয়াদে পদে থাকবেন। তবে তিনি স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন।
২. অভিশংসন বা গুরুতর অসদাচরণ (অনুচ্ছেদ ৫২): সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদ চাইলে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারে। এ জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অভিযোগের নোটিশ দিতে হয়। তদন্ত শেষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়।
৩. অসামর্থ্যের কারণে অপসারণ (অনুচ্ছেদ ৫৩): শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে চিকিৎসা পরিষদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি অনুপস্থিত বা অসুস্থ থাকলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে কমিশনার আবদুর রহমান মাসুদ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার দায়িত্ব নিতে পারেন, তবে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।’
নির্বাচনের যোগ্যতা ও পদ্ধতি
যোগ্যতা: রাষ্ট্রপতি প্রার্থীকে অবশ্যই অন্তত ৩৫ বছর বয়সী হতে হবে এবং সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে।
পদ্ধতি: রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, বরং সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই নির্বাচনে ‘রিটার্নিং অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মনোনয়নে একজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাবক এবং আরেকজন সংসদ সদস্যের সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর থাকতে হয়।