ঢাকা: মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তথ্য অধিদফতরের এক বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। পতাকার সঠিক মাপ ও উত্তোলন বিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার-সহ সব বেসরকারি টেলিভিশন, বেতার ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচার চালানো হবে।
জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ করবে। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়েও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতর এবং রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হবে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত ৩০ মিনিট নিরাপত্তা জোরদার করবে। শহিদ মিনার চত্বর ও আজিমপুর কবরস্থান এলাকায় নেওয়া হবে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দিবসটি উপলক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন, বেতার ও কমিউনিটি রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপে বাংলাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দিয়ে সজ্জা করা হবে। ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
গণযোগাযোগ অধিদফতর ঢাকায় ট্রাকের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ সংগীতানুষ্ঠান এবং নৌযানের সাহায্যে শহরসংলগ্ন নৌপথে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে।
এদিকে বাংলা একাডেমি ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আয়োজন করবে অমর একুশে বইমেলা। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন, ছড়া-কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে এবং বিশেষ শিশু সংখ্যা প্রকাশ করবে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, গণগ্রন্থাগার অধিদফতর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইন্সটিটিউট, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বইমেলায় অংশ নেবে।
শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য জাতীয় জাদুঘর ও এর শাখা জাদুঘর, শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের প্রত্নস্থান ও জাদুঘর বিনা টিকিটে পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া, ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, প্রামাণ্য নিদর্শন উপস্থাপন, সুন্দর বাংলা হাতের লেখা প্রতিযোগিতা ও সেমিনারের আয়োজন করা হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি গণগ্রন্থাগারগুলোতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।