ঢাকা: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য র্যাবের স্পেশাল ফোর্স সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত দল বা সংগঠনের সদস্যরা যাতে শহিদ মিনার অঙ্গনে প্রবেশ করে কোনরূপ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে র্যাব তৎপর রয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে “মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬” উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
কোনো হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছাড়াও সারাদেশে যেখানে যেখানে শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে, সেসব স্থানেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকি নেই, সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে র্যাবও মোতায়েন থাকবে। পুরো এলাকা ৬৪ ক্যামেরার মাধ্যমে সিসিটিভি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। আশা করি, নিরাপত্তার সঙ্গে নিরাপদে সবাই শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবে। শুধু কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নয়, একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে সারাদেশেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি।
তিনি বলেন, সার্বিকভাবে সব ধরনের ঝুঁকি পর্যালোচনা করে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে র্যাব ২১ ফেব্রুয়ারি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে অদ্য ২০ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকাসহ সারাদেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। র্যাবের সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
শহিদুর রহমান বলেন, শহিদ মিনার এলাকায় ইনার পেরিমিটার ও আউটার পেরিমিটার নির্ধারণ করে সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরে ফুট পেট্রোল, গাড়ি টহল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হবে। নিরাপত্তা জোরদারে বোমা ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়। পুরো শহীদ মিনার এলাকায় তিন শতাধিক র্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পুরো এলাকা সিসিটিভি আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আশা করি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে আরও উন্নতি হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে। এখন থেকে বিভিন্ন দাবি আদায়ের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোন কার্যক্রম করতে দেওয়া হবে না।