Tuesday 24 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সৌদি ফেরত সেই রিজিয়াকে খুঁজে পেল পরিবার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৮

সৌদি ফেরত রিজিয়াকে পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

ঢাকা: সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরত হারিয়ে যাওয়া রিজিয়া বেগমকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অসংলগ্ন অবস্থায় তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে তাকে রাখার পর পরিবারের সন্ধান পেয়ে ১২ দিনের মাথায় রিজিয়াকে হস্তান্তর করা হলো।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আশকোনায় ‘সৌদি আরব ফেরত হারিয়ে যাওয়া রিজিয়ার পরিচয় পিবিআইয়ের সহায়তায় উদঘাটন ও পরিবারে হস্তান্তর’ শীর্ষক ব্র্যাক ও পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রিজিয়া বেগমকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাক মাইগ্রেশান প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, মেয়েরা সৌদি আরবে বা মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে গিয়ে যখন নির্যাতনের শিকার হয়ে আসেন, তাদের মধ্যে এয়ারপোর্টে নামার পর এমন কেউ থাকেন যিনি কথা বলতে পারেন না, মানসিক ভারসাম্যহীন। তাদেরকে আমাদের এই সেন্টারে রেখে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি।

তিনি বলেন, রিজিয়া নামে একজন সৌদি আরব ফেরত নারী আমাদের এই সেন্টারে ১৩ দিন ধরে আছেন, যাকে এয়ারপোর্টের এফস্টেট এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি অথরিটি আমাদের কাছে দেন। এয়ারপোর্টে যখন তাকে আমাদের কাছে দিল আসলে সে এতটাই দুর্দশাগ্রস্ত ছিল যে একটা কথাও বলতে পারছিল না। আমরা বারবার চেষ্টায় ছিলাম, সে মাঝে মাঝে শুধু বলে মুসলিম, আর কোনো কিছু সে বলতে পারে না। আমরা কাউন্সেলিং দিয়ে তার কাছ থেকে কিছুই বের করতে পারছিলাম না। তার একটা দুটো শব্দ উচ্চারণ খালি আমাদের মনে হচ্ছিল তার বাড়ি সিলেট অঞ্চল, এটুকুই আমাদের প্রাপ্তি ছিল।

‘তারপরেও যখন আমরা পাচ্ছিলাম না তখন আমরা সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেই এবং তারপর গণমাধ্যমে জানাই। এর ৬ থেকে ৭ দিন চলে যাওয়ার পরও যখন আমরা পাচ্ছিলাম না তখন আমাদের ভরসায় উঠে আসে পিবিআই। তাদের একজন এসপি শারমিনা খুলনা থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপর রিজিয়ার আঙ্গুলের ছাপ ও এনআইডি যাচাই করে গ্রামের ঠিকানা বের করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘১৯ মাস রিজিয়ার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। তারা ধরেই নিয়েছে হয়তো মারা গিয়েছে। তারা কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের যে সরকারি কর্তৃপক্ষ সেখানে একটা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিল, আমাদের মা সৌদি আরবে টর্চার হচ্ছে, তাকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হোক। সেই চিঠির কপিগুলো আমাদের কাছে আছে। দেখেন সরকারি দফতর চিঠি পাওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

রিজিয়া বেগমের মেয়ে লিজা আক্তার বলেন, ‘আমার আম্মু সৌদি আরবে গিয়েছিল ২০১৯ সালে। আম্মু যাওয়ার পর ১৭ মাস পর বলছিল তার অনেক কষ্ট হচ্ছে। আম্মুকে নাকি অনেক মারধর করত। যে দালাল আমার আম্মুকে নিয়েছিল তার কাছে গিয়ে সব বললাম, তাকে বললাম দেশে এনে দিতে আম্মুকে। সে জানায় যে পারবে না। তখন থানায় মামলা করতে গেলে দালাল বলে তুমি ঢাকা আসো, যে অফিসের মাধ্যমে তোমার আম্মু বিদেশ গেছে সেখানে তোমাকে নিয়ে যাব। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। গতকালকে আমাদের কাছে একজন লোক গেছিল। তখন আম্মুর খবর পাইলাম। পাওয়ার পর আমরা ঢাকায় চলে আসছি রাতেই।’

অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন রিজিয়া বেগম। সে সময় তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অসংলগ্ন ছিল এবং তিনি নিজের ঠিকানা বা পরিবারের কোনো তথ্য জানাতে পারছিলেন না। তখন সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিরাপদ আশ্রয় ও পরিবারের সন্ধানের উদ্দেশ্যে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে হস্তান্তর করেন।’

তিনি বলেন, ‘তার কাছে কোনো পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ব্যক্তিগত নথিপত্র পাওয়া যায়নি। শুধু বিমানের টিকিটে ‘রিজিয়া বেগম’ এবং পিতা বা স্বামী হিসেবে আব্দুর নুর নাম উল্লেখ ছিল। পিবিআই সদস্যরা রিজিয়ার আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হন তার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার মামদনগর গ্রামে। এরপর তার পরিবারটিকে খুঁজে বের করা হয়।’

সারাবাংলা/এমএইচ/এইচআই
বিজ্ঞাপন

পুলিশের নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০০

আরো

সম্পর্কিত খবর