ঢাকা: সড়ক, নৌ ও রেলপথে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং চাঁদাবাজি নির্মূলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর আলটিমেটাম দিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কোনো চাঁদাবাজকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হবে না। দখলদার ও চাঁদাবাজদের পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিকেলে সবুজবাগ এলাকায় জিরানি ও মান্ডা খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশে একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। অতীতের মতো এবার কোনো অবস্থাতেই যাত্রীসাধারণের ওপর অবৈধ টোল বা চাঁদার বোঝা চাপাতে দেওয়া হবে না। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারে, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল উদ্ধার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি ঘোষণা দেন, ২০২৮ সালের মধ্যে রাজধানীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া সবকটি খাল উদ্ধার করে পানিপ্রবাহ সচল করা হবে।
অবৈধ দখলদারদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যারা খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তারা নিজ উদ্যোগে সেসব সরিয়ে নিন। অন্যথায় সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জনগণের সম্পত্তি রক্ষায় সরকার কোনো আপস করবে না।
হাবিবুর রশিদ হাবিব আরও জানান, জিরানি ও মান্ডা খালকে তাদের আদি রূপে ফিরিয়ে এনে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ দ্রুতই শুরু হবে। খালের দুই পাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ তৈরি করা হবে, যার অগ্রগতি ঈদের পরেই দৃশ্যমান হবে। অচিরেই পানিসম্পদ এবং ভূমিমন্ত্রীও এসব এলাকা পরিদর্শনে আসবেন বলে তিনি জানান।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিমন্ত্রী এই উদ্ধার অভিযানে এলাকার জনমানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতার আহ্বান জানান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।