ঢাকা: সচিবালয় প্রাঙ্গণে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। হঠাৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রোটোকল ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে পদোন্নতিবঞ্চিত বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিন বিকেল ৩টার দিকে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বের হওয়ার সময় উলটো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা একদল চিকিৎসকের সামনে তিনি হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে এগিয়ে যান। ১৮১১ জন পদোন্নতিবঞ্চিত চিকিৎসকের প্রতিনিধিরা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পান, যা উপস্থিত সবাইকে চমকে দেয়।
দীর্ঘ ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে চাকরিতে থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি না পাওয়া এই চিকিৎসকরা মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন। চিকিৎসকদের প্রতিনিধি ডা. বর্ণালী প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দীর্ঘ বঞ্চনা, এসবি (SB) রিপোর্টের জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মজীবনে স্থবিরতার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে তাদের অভিযোগ শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরামর্শ দেন।
একইসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, এই সমস্যার সমাধানে তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৮তম বিসিএসসহ বিভিন্ন ব্যাচের ১৮১১ জন কর্মকর্তা সব ধরনের যোগ্যতা ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ফিটলিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও প্রজ্ঞাপনে নাম না থাকা এবং জাতীয় নির্বাচনের কারণে এসবি রিপোর্ট সময়মতো মন্ত্রণালয়ে না পৌঁছানোর মতো কারিগরি অজুহাতে তাদের ক্যারিয়ার থমকে আছে। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত আচরণে চিকিৎসকরা আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন।
তারা জানান, দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে সাধারণ কর্মকর্তাদের কথা শুনবেন, এমনটা তারা কল্পনাও করেননি। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা অবসানের বিষয়ে এখন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা।