ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মেরুকরণ স্পষ্ট হয়েছে। এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পৃথক জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই জোটগত অবস্থানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ইসি সচিবের দেওয়া তথ্যমতে, দলগুলো এরই মধ্যে তাদের জোটগত অবস্থান কমিশনকে লিখিতভাবে জানিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান দু’টি বলয় হলো- বিএনপি জোট ও জামায়াত জোট। বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। এছাড়া, সংসদে নির্বাচিত ছয়জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যও বিএনপির এই জোটকে সমর্থন দিয়েছেন। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি।
আর কোনো জোটে শরিক হননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা ও মাদারীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। তারা স্বতন্ত্রভাবেই নিজেদের অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইসি সচিব বলেন, ‘৬ এপ্রিল নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন ভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’
এদিকে, ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি দল ও প্রার্থীদের কাছে নারী আসনে নির্বাচনে জোটগত অবস্থান জানাতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে সবাই তাদের অবস্থান জানিয়েছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যতগুলো আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে যে ফল আসে সেটিই হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দলের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা। তবে বিভিন্ন শর্তের কারণে এই সংখ্যা এদিক সেদিক হতে পারে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২৯৯ আসনে ভোট হয় শেরপুর-৩ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ার কারণে। আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে ফলাফল প্রকাশ বন্ধ রেখেছে ইসি। তাই ২৯৭ আসনের আসনের ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন। তবে এরই মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সংসদে দলটির প্রতিনিধি রয়েছে ২০৮ জন।
এ ছাড়া, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি, এনসিপি ছয়টি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দু’টি আসন। এদের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছে সাতটি আসনে।
আইন অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে বিএনপি জোট ৩৬টির মতো, বাংলাদেশ জামায়াত জোট পাবে ১২টির মতো ও বাকি দু’টি পাবে অন্যরা।