ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এক ব্যস্ততম দিন অতিবাহিত করবেন। সরকারি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যাদি সম্পাদনের লক্ষ্যে তিনি আজ দিনব্যাপী মোট পাঁচটি পৃথক ও বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তার আজকের এই কর্মতৎপরতা শুরু হবে সকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনার মধ্য দিয়ে এবং শেষ হবে রাতে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা একটি বৈঠকের মাধ্যমে।
প্রধানমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের (২ এপ্রিল) নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী, দিনের শুরুতেই সকাল ১০টায় তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হবেন। এক ঘণ্টার এই অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা রয়েছে।
এরপর বেলা ১১টায় তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থিত হবেন। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ভূমিকম্প ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও দেশের সার্বিক দুর্যোগ প্রস্তুতি নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভায় অংশ নেবেন তিনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির বিষয়ে সেখানে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যাহ্নে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত নির্ধারিত এই সাক্ষাতে দেশের বর্তমান সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় হতে পারে।
বিকেলের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার সংসদীয় দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবেন। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত থেকে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে রাত ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকটিকে।এই বৈঠকে জ্বালানি খাতের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ হ্রাস করার লক্ষ্যে কিছু যুগান্তকারী ও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস পুনরায় চালু করা, সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হোম অফিস ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধের সময় এগিয়ে আনার মতো বিষয়গুলো এই বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো দেশ। সব মিলিয়ে আজ এক জনগুরুত্বপূর্ণ ও কর্মচঞ্চল দিন পার করবেন সরকারপ্রধান।