Friday 03 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

টরন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের রিসেপশন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৪৭

বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল টরন্টো।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) টরন্টোস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল টরন্টোতে কর্মরত কনস্যুলার কোরের সম্মানে এক অভ্যার্থনার আয়োজন করে। কনফারেন্স হল, অ্যাট্রিয়া ওয়ানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে টরন্টোতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার কোরের সদস্যবৃন্দ, আন্তর্জাতিক বিজনেস চেম্বারের প্রতিনিধি, অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ও সিটি কাউন্সিলের সদস্যসহ কানাডার কয়েকজন রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্টারিওর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী বিজয় থানিগাসালাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অন্টারিওর প্রাদেশিক সংসদের সদস্য আরিস বাবিকিয়ান অনুষ্ঠানটিতে যোগ দেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের বক্তব্যে কনসাল জেনারেল শাহ্ আলম খোকন দেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী শহিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যার ঐতিহাসিক ঘোষণা জাতিকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

কনসাল জেনারেল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এ বছরের স্বাধীনতা দিবস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের বহুত্ববাদী নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশ প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে, যার নির্বাচন ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, সদ্য নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকার এ পদে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়েছে।

কনসাল জেনারেল শাহ‌ আলম খোকন বলেন, “এই প্রার্থীতা বহুত্ববাদের প্রতি আমাদের গভীর অঙ্গীকার এবং জটিল এই সময়ে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় অর্থপূর্ণ অবদান রাখার ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে।” তিনি এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করেন।

কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ ও কানাডার গভীর ও সুদীর্ঘ বন্ধুত্বের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং উল্লেখ করেন যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ হয়েছে। তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কানাডার অবিচল সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রধান অতিথি অন্টারিওর সহযোগী মন্ত্রী বিজয় থানিগাসালাম কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের রেসিলিয়েন্স ও পারস্পরিক বন্ধনের প্রশংসা করেন।

আগত অতিথিদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

এর আগে, কনস্যুলেট জেনারেল গত ২৬ মার্চ বৃহত্তর টরেন্টো এলাকা ও তার আশেপাশের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে তাদের প্রথম রিসেপশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।