Friday 03 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

খাল চলবে খালের গতিতে, নিশ্চিত করা হবে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ: পানিসম্পদমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪২ | আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪৩

পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

লক্ষ্মীপুর: যতো বাধা-বিপত্তিই আসুক না কেন, খাল তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নের কাফিলাতলি বাজার এলাকায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেছেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল খনন কর্মসূচি ছিল একটি যুগান্তকারী বিপ্লব। কিন্তু সেই বিপ্লবটি সফলভাবে সমাপ্ত হতে দেওয়া হয়নি। যদি জিয়ার দূরদর্শী চিন্তাধারার আলোকে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হতো, তবে বাংলাদেশ অনেক আগেই একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হতো।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন এই মহৎ উদ্যোগের কোনো চর্চা ছিল না এবং নানাভাবে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমানে পুনরায় সেই চর্চা শুরু হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা হবে।’

তিনি আরও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘যতো বাধা-বিপত্তিই আসুক না কেন, কোনো কিছুই এই অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না। খাল তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। মূলত খাল খনন ও জলপথ সচল রাখাই এখন জনগণের প্রাণের দাবি।’

পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘খাল খনন করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, খালের মাঝখানে অসংখ্য দোকানপাট ও বাড়িঘর গড়ে উঠেছে। যদি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকতো, তবে আজ খালের ওপর এমন অবৈধ স্থাপনা তৈরি হতো না। এমনকি কলকারখানার বর্জ্য কিংবা বসতবাড়ির ড্রেনও খালের পানিকে দূষিত করতে পারতো না।’

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম।

অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক এবং লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১২.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ‘সি-খাল’টি সর্বশেষ ১৯৭৮ সালে খনন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। খালের প্রস্থ ২০ থেকে ৩৫ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সদর উপজেলার হামছাদী ও রায়পুরের বামনী ইউনিয়নসহ মোট চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন এবং কৃষি কাজে এর প্রত্যক্ষ সুফল ভোগ করবেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর