Friday 03 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে পারে জাপানি কনসোর্টিয়াম’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৪ এপ্রিল ২০২৬ ০০:১৫

ঢাকা: বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আলোচনার মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামকে দেওয়ার বিষয়ে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জাপানি পক্ষের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে রাজস্ব সংক্রান্ত দিকগুলো নিয়ে কাজ করছি। আলোচনা এখন মূলত সেদিকেই নিবদ্ধ। একবার যখন আমরা এ বিষয়ে একটি পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাব, তখন আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারব। তাই আমরা আবারও আলোচনার জন্য বসব।’

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্যই আমরা বারবার আলোচনার টেবিলে বসছি। আমরা যত দ্রুত সম্ভব টার্মিনালটি চালু করতে চাই।’

তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও জাপান এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিতীয় দফার বৈঠকটি করেছে, যা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করার পথে নতুন গতির সঞ্চার করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

জাপানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধিত প্রস্তাবের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে এমবার্কেশন ফি (উড্ডয়ন ফি), অগ্রিম অর্থ প্রদান (আপফ্রন্ট পেমেন্ট) এবং রাজস্ব ভাগাভাগির ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাপানি পক্ষকে বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনা করতে এবং একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিতে অনুরোধ করেন। তিনি জাপানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে সরকারের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, ‘আমরা আলোচনার মধ্যে আছি। আলোচনা এখনও চলছে; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আশা করি, এটি শিগগিরই চূড়ান্ত হবে।’

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকও এই আলোচনায় অংশ নেন। জাপানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান করতে এবং একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করায় বৈঠকটি মূলত পরিচালনা এবং আর্থিক দিকগুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রায় সম্পন্ন হওয়া টার্মিনালটি চালু করার উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ হিসেবে গত ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত আগের বৈঠকের পর এই সর্বশেষ আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হলো।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, যদি ঐকমত্য হয়, তবে চুক্তি সই করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। টার্মিনালটি এই বছরের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে উদ্বোধন করা হতে পারে।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে টার্মিনালটি প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল, যার ফলে বেশ কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

মিল্লাত আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব টার্মিনালটি খুলে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, যার ফলে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) থার্ড টার্মিনাল নিয়ে ফের দুপক্ষের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর