Monday 06 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটাবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৬ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৪

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

ঢাকা: স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটাবে সরকার— বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে এক বিশেষ বার্তায় এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে এ বার্তা পাঠানো হয়।

তারেক রহমান বলেন, মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ। এই তিনটি উপাদান পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত এবং এদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, সকল প্রাণের সুরক্ষা আজ সময়ের দাবি এবং এটাই হচ্ছে ‘এক স্বাস্থ্য’ বা ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা, যা মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার চারপাশের প্রাণিকূল ও পরিবেশের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সমান তাগিদ দেয়।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানকে সমন্বিত করে গবেষণা ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা বর্তমানে একান্ত প্রয়োজন।

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে প্রান্তিক অঞ্চল ও দরিদ্র বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই, মানসম্পন্ন ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদানে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কিংবা মেশিন লার্নিং (এমএল)-এর মতো প্রযুক্তির উদ্ভাবন, ব্যবহার ও প্রসারকে সরকারকে উৎসাহিত করতে হবে।

সরকারের নীতি ও মৌলিক অধিকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিশ্বাস করে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। নির্বাচিত এই সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির ভিত্তিতে উন্নত কল্যাণকামী রাষ্ট্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার আলোকে সকলের জন্য সহজ ও সুলভ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার এবং এই অধিকার নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

স্বাস্থ্য খাতের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, এই লক্ষ্য পূরণে দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী বা হেলথ কেয়ারার নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী কর্মী।

নাগরিকদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড প্রবর্তন করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা চালু করা হবে। স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান উন্নয়ন ও চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, স্বাস্থ্যবিমা চালু ও ধীরে ধীরে তার বিস্তার, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতার জন্য ন্যায়সঙ্গত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

অর্থনৈতিক বরাদ্দের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এসব লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে পালন করলে আমরা একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সক্ষম হব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে তিনি সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং এই দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর