Tuesday 07 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘জ্বালানি তেলের সরবরাহজনিত কিছুটা সমস্যা আছে, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ নয়’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫০

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার, পলিসি অ্যান্ড স্ট্রাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

ঢাকা: দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার, পলিসি অ্যান্ড স্ট্রাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিগত বছরের তুলনায় বর্তমানে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ সামান্য কমেছে, তবে তা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় ডিজেলের সরবরাহ সামান্য কমেছে এবং পেট্রোলের সরবরাহ প্রায় ১৫ শতাংশের মতো হ্রাস পেয়েছে, তবে অকটেনের সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সরবরাহ ঘাটতি অস্বাভাবিক নয়।’

বিজ্ঞাপন

উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বর্তমান সংকটের পেছনে অবৈধ মজুত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভীতি বা ‘প্যানিক বায়িং’-কে দায়ী করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের দেশে জ্বালানির দাম কম হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় তেল পাচারের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে এবং অসাধু চক্র অতিরিক্ত মুনাফার আশায় তেল মজুত করছে। এ ছাড়া, ভবিষ্যৎ সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনে রাখছে, যা বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করেছে।’

ডা. জাহেদ জানান, অবৈধ মজুত রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এরইমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের যথেষ্ট মজুত রয়েছে যা বাজারের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।

উপদেষ্টা জ্বালানি খাতের বিশাল ভর্তুকি ও বকেয়া পাওনার বিষয়েও আলোকপাত করেন।

তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকেই এই খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকির বোঝা ছিল। বর্তমানে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আদানি পাওয়ার এবং পেট্রোবাংলাসহ বিভিন্ন খাতের মোট বকেয়া ও ভর্তুকির চাপ অনেক বেশি। এই বিশাল আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকার এখনই জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও জানান, অন্তত আরও এক মাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর যেন অতিরিক্ত প্রভাব না পড়ে, সরকার সেই চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছে।’