Wednesday 08 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড: হাসনাত আবদুল্লাহ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৫ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০৯

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

ঢাকা: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের অভিযোগ এনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তার গৌরব ও পেশাদারিত্ব হারিয়ে এখন আর জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের পরিচয় ধরে রাখতে পারছে না। এটি এখন নির্দিষ্ট কিছু মানুষের আজ্ঞাবহ বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের মতো পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও দুর্ভাগ্যজনক একটি বিষয়।

বিজ্ঞাপন

বিসিবির এই ভঙ্গুর দশাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলটি অতি দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি। যদি সময়মতো এই বিল নিষ্পত্তি করা না হয় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হয়, তবে মানবাধিকার কমিশনও বিসিবির মতো ‘বাপের দোয়া কমিশন’-এ পরিণত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থাকে যেভাবে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, সেই একই ছায়া এখন মানবাধিকার কমিশনের ওপরও পড়ার শঙ্কা রয়েছে। স্বচ্ছ আইনি কাঠামো না থাকলে মানবাধিকার কমিশন শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল দমনের একটি হাতিয়ারে রূপান্তরিত হতে পারে, যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এক ধরনের সুক্ষ্ম দলীয়করণের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশ ও স্বায়ত্তশাসনকে ধ্বংস করছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের সকল গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যকারিতা হারাবে।

জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে তাই অবিলম্বে মানবাধিকার বিল পাসের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন কমিশন গঠন করার জন্য তিনি সংসদ ও সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

 

সারাবাংলা/এফএন/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর