ঢাকা: পহেলা বৈশাখ থেকে দেশের আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি নির্বাচিত ব্লকে ‘প্রি-পাইলটিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আধুনিক ও ডিজিটাল কার্ড বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদ উদ্দিন এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান যে, আগামী পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এবং কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
তিনি জানান যে, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি নির্বাচিত ব্লকে ‘প্রি-পাইলটিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণ শুরু হচ্ছে। এই তালিকায় টাঙ্গাইলের সুরুজ ব্লক, পঞ্চগড় সদরের কমলাপুর ও বোদা উপজেলার পাঁচপীর, বগুড়ার উথলী, ঝিনাইদহের কুপালপুর, পিরোজপুরের রাজাবাড়ি, কক্সবাজারের রাজারছড়া, কুমিল্লার অরণ্যপুর, রাজবাড়ীর তেনাপঁচা, মৌলভীবাজারের ফুলতলা এবং জামালপুরের গাইবান্ধা ব্লক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশই ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক। এই কার্ডটি মূলত একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে, যা সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
মন্ত্রী জানান যে, প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে নির্বাচিত কৃষকরা বার্ষিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ প্রণোদনা পাবেন। এছাড়া এই কার্ড ব্যবহার করে নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে পিওএস মেশিনের মাধ্যমে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ ক্রয় করা যাবে। একই সঙ্গে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজার তথ্য এবং কৃষি বীমার মতো অন্তত ১০টি বিশেষ সেবা পাবেন। আগামী আগস্টের মধ্যে দেশের ১৪৫টি উপজেলায় এই পাইলটিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী ৪ বছরের মধ্যে সারা দেশে স্মার্ট ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে সকল কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষি মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই স্মার্ট ডাটাবেজ সারের অপচয় হ্রাস করতে এবং মাটির গুণাগুণ বজায় রেখে চাহিদা মাফিক ফসল উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে, যা শেষ পর্যন্ত কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষি খাতকে জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করবে।
সারাবাংলা/ এফএন