ঢাকা: হাম প্রতিরোধে কিশোরীদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
রোববার (১২ এপ্রিল) হাসপাতালটির শিশু বিভাগের উদ্যোগে শহিদ ডা. মিল্টন হলে হামের পুনরুত্থান প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে সিএমই ও গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএমইউর উপাচার্য বলেন, হাম প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় প্রাপ্ত বিষয়গুলো নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। টিকার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহারের বিষয়টিও জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে। হাম প্রতিরোধে কিশোরীদের বুস্টার ডোজ দেওয়া যায় কি-না সেটা বিবেচনা নেওয়া উচিত। হাম প্রতিরোধে সার্ভেসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন, যাতে বিজ্ঞান সম্মত তথ্য নীতি নির্ধারকদের কাছে উপস্থাপন করা যায়।
ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ছয় মাসের আগেও হাম সংক্রমণ হচ্ছে, যা আগে ধারণা করা হতো না। এটি ইঙ্গিত করে যে মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা সব ক্ষেত্রে শিশুর মধ্যে যথাযথভাবে পৌঁছাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বুস্টার টিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এজন্য গর্ভবতী মায়েদের ওপর বৃহৎ পরিসরে গবেষণা চালিয়ে তাদের প্রতিরোধক্ষমতার অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। গবেষণার ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে কিশোরী মেয়েদের জন্য অতিরিক্ত টিকা প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়ক হবে। এ ধরনের বৈজ্ঞানিক ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা জরুরি। প্রতিটি মহামারি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। সুতরাং পরবর্তী বড় মহামারির জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত, তা বিবেচনার সময় এসেছে।
আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউর শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেসমিন মোরশেদ। তিনি তার উপস্থাপিত প্রবন্ধে জানান, হামে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য বিএমইউতে আইসোলেটেড ওয়ার্ড চালূ করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাম রোগ প্রতিরোধে চলমান টিকাদান কর্মসূচী সফলভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। কারন সময় মতো টিকা দিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সভায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, জ্বর হলেই হাম হয়েছে ভেবে তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে আলাদা বা আইসোলেশন করার প্রয়োজন নেই। তবে চার দিন পর শরীরে র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে তখন রোগীকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।
আলোচনা সভায় বিএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাইন্স অনুষদে ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, নিওনেটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবেদ হোসেন মোল্লা, ডা. তাসমিন জারা, অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন, অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক, অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, ডা. বিনোদ বড়ুয়া, ডা. চিরঞ্জিত দাস, ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী, আইসিডিডিআরবি ডা. লোবাবা শারমিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বিএমইউর শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশে শিশুদের মাঝে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব, পুনরুত্থান প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভ্যাক্সিনেশন, আইসোলেশন, কার্যকর রোগ ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে দেশের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞগণ, বিএমইউ, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ ও প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআরবি এর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ অংশ নেন।
আলোচনা সভায় হামের টিকাদান কর্মসূচী শক্তিশালীকরণ, ইন্টিগ্রেটেড কেস ম্যানেজমেন্ট অনুসরণ, রোগের জটিলতা মোকাবিলা, এন্টিবায়োটিকের ব্যবহারে সচেতনা হওয়া, কেসভিত্তিক নজরদারি, প্রাথমিক সনাক্তকরণ জোরদার, কার্যকর রোগ ব্যবস্থাপনা, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা ও প্রস্তুতি, জনসচেতনা ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, নীতিমালা ও সরকারী কৌশল, গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন ইত্যাদির উপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।