Sunday 12 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইরানে শিশু হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে শোক সমাবেশ

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
১২ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৩৮ | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী।

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ইরানে শিশু হত্যার প্রতিবাদে এক শোক সমাবেশ ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহিদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আয়োজন করে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। িএ

এ সময় উপস্থিত থেকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত চলাচলের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী।

ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে অনেক জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশি জাহাজও আছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বাংলাদেশকে তারা ভাইয়ের দেশ হিসেবে বিবেচনা করেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা হলে তবেই ইরান এতে অংশ নেবে, অন্যথায় নয়। তবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ইরান হামলা থেকে বিরত থাকবে, কিন্তু যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে পালটা জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্দেশে হামলা চালিয়েছে, কিন্তু এতে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের জনগণ সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসব হামলায় শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, যা বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো ঘটনা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ইরানের কালচারাল কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী, সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে ইরানি শিশুদের স্মরণে প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুলব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনী করা হয়। পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচি ও প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সকাল থেকেই বটতলা এলাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে সংহতি প্রকাশ করেন। সারিবদ্ধভাবে সাজানো ছোট ছোট প্রতীকী কফিন উপস্থিতদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি করে। সমাবেশে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবকও ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর