ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নানা সমালোচনা ও প্রতিকূলতার মুখেও বিএনপি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে পারে-বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মুক্তবাজার অর্থনীতির সূচনা এবং বাকস্বাধীনতাকে মুক্ত করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার আদর্শ ও রাজনৈতিক পতাকা বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ আয়োজিত এক শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে বিএনপি ও বেগম জিয়া সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই লড়াইয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল এবং শুধু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধেই ৪৭টি মামলা দায়ের করা হয়। যে মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে তিনি কোনো মামলাই নয় বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়াকে যে কক্ষে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, সেখানে মানবেতর পরিবেশ বিরাজ করত। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ত, ইঁদুর দৌড়াতো। তার ৫ বছরের সাজা বাড়িয়ে উচ্চ আদালতে ১০ বছরে উন্নীত করা হয়, যা বিচার বিভাগের তৎকালীন অবস্থার একটি দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন ফখরুল। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি হওয়ার সময় বেগম জিয়া নিজে হেঁটে কারাগারে গিয়েছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিনের কারাভোগ ও অসুস্থতার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে ফিরেছিলেন হুইলচেয়ারে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেগম জিয়া ছিলেন সবার আইকন। তার জানাজা সেভাবে সংগঠিত না হলেও লাখ লাখ মানুষ কষ্ট করে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। বিশ্ব তার প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি যেমন বিএনপির নেত্রী ছিলেন, তেমনি তিনি পুরো দেশের নেত্রী ছিলেন। সংকীর্ণতা তার চরিত্রে ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পরের একটি স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সে সময় বেগম জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ছিলেন। দীর্ঘ নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি তখন কোনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের আহ্বান জানাননি। বরং ঐক্যের মাধ্যমে দেশ গড়ার বার্তা দিয়েছিলেন, যা তার রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় বহন করে।
বিএনপির সমালোচনা হওয়াকে স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে দলটি গর্বের সঙ্গে বলতে পারে—জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাকস্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, খালেদা জিয়া সেই আদর্শকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন এবং দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন।
ফখরুল বলেন, বেগম জিয়া আর ফিরে আসবেন না, কিন্তু তার স্বপ্ন ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে। তার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পূর্ণ করাই হবে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তার প্রয়াণ নতুন করে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে এবং শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশকে পেছনে টেনে নেওয়ার জন্য নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রয়েছে। সেগুলো রুখে দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।