জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তি সমর্থিত প্যানেলগুলোর মধ্যে পালটাপালটি অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোট চলাকালীন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট প্যানেলের প্রার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’-এর ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমরা দেখতে পাই, একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের কয়েকজন ব্যালট নম্বরের টোকেন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। তবে শুরুতে কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে আমরা প্রমাণ উপস্থাপন করলে নির্বাচন কমিশন সব প্যানেলের প্রতিনিধিদের ব্যালট নম্বরের টোকেন নিয়ে বুথের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়। কিন্তু এর আগে আমাদের প্যানেলের কাউকে টোকেন নিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এতে শুরুতে আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে।’
এদিকে শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের ওপর ছাত্রদলের সদস্যরা হামলার চেষ্টা করেছেন— এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে শিবির সমর্থিত প্যানেল।

ছবি: সারাবাংলা
শিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগে ছাত্রদল তাদের প্যানেলের পরিচিতি দিচ্ছিল, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন। বিষয়টি জানালে তারা আমাদের প্রার্থীদের মারার জন্য চড়াও হয়। দর্শন বিভাগে আমাদের এজেন্টের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রথম থেকেই প্রধান ফটকে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আমাদের স্লিপ বিতরণকারী কর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদেরও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে নারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিবিরের স্লিপ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত।’
এদিকে নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী ফয়সাল মুরাদ।
তিনি বলেন, ‘আমরা কালো টাকা ও পেশিশক্তির বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আজ তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। প্রশাসনের জামায়াতপন্থি একটি অংশ শিবিরকে এবং বিএনপিপন্থি অংশ ছাত্রদলকে সহায়তা করছে।’
ফয়সাল মুরাদ আরও অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনে যে কালি ব্যবহার করা হচ্ছে তা ছড়িয়ে পড়ছে। ভোট শেষে হলেও অনেক ভোটার ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে। কঠোর নিরাপত্তার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। ছাত্রঅধিকার ও ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের অনেকেই ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করছে।’
নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পোলিং এজেন্ট পরিবর্তন ইস্যুতে আমাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হয়নি। কোনো এজেন্ট কার্ড দেওয়া হয়নি। তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও দুই ঘণ্টা পর আমাদের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’