জবি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে ভোট গণনা চলছে। কেন্দ্রীয় প্রধান ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ প্রার্থী ও এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোট গণনার কাজ শেষ হলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন থেকে।
ভোট গণনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে তিনটি বড় পর্দায় সরাসরি ভোট গণনার দৃশ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ অপেক্ষায় প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা বড় পর্দার সামনে অবস্থান নিয়ে ভোট গণনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে তিনটি ওএমআর মেশিনে ভোট গণনার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রের ভোট গণনা মাগরিবের নামাজের পর শুরু হলেও কিছুক্ষণ পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ওএমআর মেশিন বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোট গণনায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় প্রধান, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ভোটগ্রহণের জন্য মোট ৩৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এসব কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথ বসানো হয়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি কেন্দ্র এবং একটি হল সংসদের জন্য পৃথক একটি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী ছিলেন ১৮৭ জন।
ভোট কাস্টিং প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সদস্য ড. জুলফিকার মাহমুদ জানান, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় সংসদে প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হল সংসদে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
এদিকে সারাদিন বিভিন্ন প্যানেলের পাল্টাপাল্টা অভিযোগ ও দোষারোপের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ চললেও কোনো প্যানেল বা প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। নির্বাচন শেষে শিক্ষক সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিকভাবে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তারা আরও জানান, ভোট চলাকালে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলে কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।
ভোট পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) জানায়, সকালে বই আকারে প্যানেল প্রার্থীদের তালিকা বিতরণের অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি জানার পর নির্বাচন কমিশন তা সরিয়ে নেয়। ইউটিএল নির্বাচনকে সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে ৬ জানুয়ারি পুনরায় জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।