ঢাকা: ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ভোট শুধু একটি অধিকার নয়, এটি গণতন্ত্রের বাস্তব প্রয়োগ। আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কেরানীগঞ্জে নিজ নির্বাচনি আসনে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘খালেদা জিয়া মরেন না। তার সংগ্রামী জীবন আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। আমাদের প্রিয় নেতা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় চরিত্র। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য আপসহীন অবস্থানের কারণে খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।‘
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন প্রমাণ করে যে লোভ, প্রতিহিংসা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করা সম্ভব। তার আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য শক্তি ও অনুপ্রেরণার উৎস।
দেশের উন্নয়নে তার চেতনা ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করাই বিএনপির দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কেরানীগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল কলেজ, ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো উন্নয়ন প্রকল্প সফল হয় না, তাই জনগণকেই উন্নয়নের অংশীদার হতে হবে।
নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৬০ বছরের কথা মাথায় রেখে কেরানীগঞ্জের জনসংখ্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বসবাসযোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। লক্ষ্য হলো এমন নাগরিক সুবিধা গড়ে তোলা, যাতে মানুষ ঢাকামুখী হতে বাধ্য না হয়।
ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ভোট শুধু অধিকার নয়, এটি গণতন্ত্রের প্রয়োগ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট কেন্দ্রে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমেই জনগণ সরকার গঠন করে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার স্বীকৃতি নিশ্চিত হয়। এ জন্য প্রতিটি ভোটারকে সচেতনভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার ইতিহাস, সংগ্রাম এবং দেশের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।