ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে দেওয়া অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই বক্তব্য যদি সত্য হয়, তবে তা পুরো সমাজব্যবস্থাকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার একটি ভয়ংকর অপচেষ্টা।
মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেলে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি পোস্টে দাবি করা হয় যে, আধুনিকতার নামে নারীরা ঘর থেকে বের হলে তারা শোষণ ও নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হন, যাকে তিনি ‘পতিতাবৃত্তির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। মাহদী আমিন বিষয়টিকে নারী জাতি এবং পুরো সমাজের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, পোস্টটি দেওয়ার ৯ ঘণ্টা পর এবং দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে গভীর রাতে হ্যাকিংয়ের দাবি তোলা হয়েছে। যদি বিকেল থেকেই অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে না থাকতো, তবে কেন তাৎক্ষণিকভাবে অন্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনগণকে জানানো হলো না, তা নিয়ে মাহদী আমিন সংশয় প্রকাশ করেন। ১২ ঘণ্টা পর থানায় জিডি করা এবং খুব দ্রুত অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার দাবিকেও তিনি ‘অবিশ্বাস্য’ বলে মন্তব্য করেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি সর্বদা নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সমঅধিকারের পক্ষে। জামায়াতের এই ধরনের আচরণ নতুন কিছু নয় উল্লেখ করে তিনি দলটির পূর্বের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত আমিরের দল থেকে ইতিপূর্বে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে এবং সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্বকে ট্রফির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এমনকি নিজেদের নারী কর্মীদের দিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করালেও দলটির শীর্ষ পদে নারীদের অংশগ্রহণে তাদের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা দলটির দ্বিচারিতা ও ইনসাফ বুলির অন্তসারশূন্যতা প্রমাণ করে।
মাহদী আমিন আরও অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি ও ছাত্রদলের নারী নেত্রীরা বর্তমানে সাইবার স্পেসে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিকল্পিত বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। তিনি দেশের অর্থনীতি, গার্মেন্টস শিল্প এবং প্রশাসনে নারীদের অনস্বীকার্য অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি সংকটে নারীরা অগ্রভাগে ছিলেন। নারীদের সম্মান ও অধিকার রক্ষার প্রশ্নে বিএনপি কোনো আপস করবে না এবং এ ধরনের পশ্চাৎপদ মানসিকতা আধুনিক বাংলাদেশে মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।