Monday 02 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাত মায়ের গায়ে’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৩

চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বিএনপির ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত, রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরীর চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ১১ দলীয় জোটের শরিক অলি আহমদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘অলি আহমদ বীরবিক্রম, যিনি প্রথম উই রিভোল্ট বলে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তিনি জিয়াউর রহমানকে হাতে ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি এখন আক্ষেপ করে বলেন, আমি লড়াই করেছি রণাঙ্গনে। আমি দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে বিএনপি গঠন করেছি। তিনি বলেন, এটা জিয়াউর রহমানের বিএনপি নয়, এটা খালেদা জিয়ারও বিএনপি নয়। তিনি আরও একটি কথা বলেন, তবে সেটা আমি বলতে চাই না।’

বিজ্ঞাপন

জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর অত্যাচার শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার মাধ্যমে। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ কী কী করেছিল আপনারা সবই জানেন। তাদের পাপের শাস্তি তারা এক অংশ পেয়ে গেছে। কিন্তু এরপর সবচেয়ে নির্যাতিত দল জামায়াতে ইসলামী ধৈর্য্য ধরল। শহিদ পরিবারগুলোর পাশে গিয়ে হাজির হল। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াল।’

‘আর আরেকটি দল চাঁদাবাজি শুরু করে দিল। আমি তাদের অনেক সিনিয়র নেতাকে হাত ধরে বলেছি, দোহাই আল্লাহ, আমরা সবাই মজলুম ছিলাম, জালেম হবেন না। মানুষকে কষ্ট দেবেন না। চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। দেশকে অমুক আলম, তমুক আলমের সাম্রাজ্য বানাবেন না। বারবার অনুরোধের পরও তারা শান্তির পথে, মানুষকে ভালোবাসার পথে আসলেন না। বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি শুরু করে দিল। এই দখলদারি করতে গিয়ে নিজেদের ২৩৪ জন মানুষকে নিজেরাই মেরে ফেলল। এরা বাংলাদেশকে কী দেবে! ক্ষমতায় আসার আগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ যে বার্তা দিয়েছিল, একই বার্তা এখন এরাও দিচ্ছে।’

সেই দল এখন জামায়াতের পেছনে লেগেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন তারা লেগেছেন আমাদের পেছনে, আমাদের মা-বোনদের পেছনে। তারা মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়। তারা ‍হুমকি দেয়, গায়ের কাপড় খুলে ফেলবে। এরা কি মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয়নি ? এরা যদি মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয়, তাহলে প্রথমে অনুরোধ করব, তোমরা তোমাদের মাকে সম্মান কর।’

চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় এক্স আইডি হ্যাক করা হয়েছে জানিয়ে আমির বলেন, ‘আমি কেন প্রতিবাদ করি, সেজন্য আমার আইডি হ্যাক করে আমার নামে এত জঘন্য একটা বিষয় চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন বলবেন আপনার ঘরের কলাটা খেল কে ? ওই যে ঠাকুর ঘরে কে রে, অর্ধেক কামড় দিয়ে বলে আমি কলা খাই না। হ্যাক করেছে হ্যাকার। এরই মধ্যে আবিষ্কার হয়ে গেছে কারা এটা করেছে ? ওদের পেছনে কোন কালো হাত আছে, সেটাও আমরা আবিষ্কার করব ইনশল্লাহ।’

‘তারা করে আমার নামে চালাই দিয়েছে। অসুবিধা নাই, আল্লাহ তার মাথার ওপর লানত হিসেবে এটাকে ফেরত দেবেন। মহান আল্লাহ সাক্ষী, এ ধরনের নোংরা কথা দূরে থাক, নোংরা চিন্তাও কখনো করি না। আমাদের মা-বাপ আমাদের এই শিক্ষা দেননি।’

লালকার্ডের ভয়ে ‘তাদের’ মাথা গরম হয়ে গেছে জানিয়ে শফিকুর বলেন, ‘তাদের মাথা এত গরম কেন ? মাঘ মাসে এত গরম হলো কেন ? এটা তো চৈত্র মাসে হওয়ার কথা। গরম হয়েছে কারণ, জুলাইযোদ্ধাদের যারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিল, জুলাইকে যারা স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের তরুণ সমাজ একটা বার্তা দিয়েছে। ডাকসু থেকে জাকসু পর্যন্ত তরুণ ছাত্ররা নারী নির্যাতনকারী, চাঁদাবাজ, মামলাবাজদের লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। এরপর লাল কার্ড দেখার ভয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। যেখানেই হচ্ছে, সেখানেই দুর্গের পতন। জনজোয়ার এভাবে ঠেকানো যাবে না।’

‘আজ মায়েরা মনে করে, তাদের ইজ্জতের ওয়ারেন্টি হিসেবে ১১ দল নিরাপদ। একথা আমার নয়, আমার মায়েদের কথা। মায়েরা একথা বলে কেন, এটা তাদের দোষ।’

তিনি বলেন, ‘এখন তারা মায়ের গায়ে হাত তোলে। আবার এসে বলে, একটা ফ্যামিলি কার্ড নাও। এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ের হাত। রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড। আমার মায়ের মর্যাদার কাছে ওই ফ্যামিলি কার্ড নস্যি, এর দুই পয়সার কোনো গুরুত্ব নেই। আগে আমার মায়ের মর্যাদা, তারপর তোদের ফ্যামিলি কার্ড। মায়েদের গায়ে হাত দিচ্ছ, আগুন জ্বলে উঠবে। মা-বোনদের আমরা মাথায় তুলে রাখব ইনশল্লাহ। মায়ের মর্যাদার জন্য জান দিতে প্রস্তুত থাকব।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘অপবাদ দিয়ে আমাদের ঠেকাতে পারবে না। ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের গতিস্তব্ধ করতে পারবে না। আলটিমেট মঞ্জিলে না যাওয়া পর্যন্ত ইনশল্লাহ আমরা থামব না। আল্লাহর দেওয়া বিধানের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ আসনের শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ আসনের শফিউল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর