Monday 02 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ফ্যাসিস্টগুলাকে সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে: আম্মার

রাবি করেসপন্ডেন্ট
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:২৬

রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘গণভোট–২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার–প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬১ জন শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তাদের নাম প্রকাশ করেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজনে গণভোটবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাবির সিনেট ভবনে রাবি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৩টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণভোট বিষয়ক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা।

বিজ্ঞাপন

তার বক্তব্যের পরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। পরে তিনি কিছু কাগজ হাতে মঞ্চের সামনে এসে সঞ্চালনাকারী রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদের কাছে বক্তব্য দেওয়ার জন্য একমিনিট সময় চেয়ে অনুরোধ জানান। তবে সঞ্চালক তার অনুরোধ ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অনুরোধ জানান এবং উপাচার্য তাকে কথা বলার অনুমতি দেন।

সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘এখানে এমনও মানুষ বসে আছে যারা জুলাইয়ে নীরব ছিল। এখানে এমনও মানুষ বসে আছে যারা আমাদের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন ন্যারেটিভ উৎপাদন করেছে। এর মধ্যে পুন্ড্র ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আছে।’

তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আম্মারের উদ্দেশে বলেন, ‘অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে আম্মার’। প্রতিউত্তরে আম্মার বলেন, ‘অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য তো তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টগুলাকে সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে। এখানে ১৬১ জন শিক্ষকের নাম আছে। এটা আমাকে বলতে দিতে হবে। না হলে জুলাইয়ে আহত ও শহিদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে বের হয়ে যাইতে হবে।’

এর পর তিনি মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষে একই মঞ্চে একটি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই ১৬১ শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেন এবং জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে তাদের বিভিন্ন ভূমিকার অভিযোগ তুলেন। আম্মারের তালিকায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর, কোষাধ্যক্ষ অবায়দুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, আইসিটি সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা, শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সরকারসহ আরও অনেকেই।

পরিশেষে তিনি, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সেই ১৬১ জন শিক্ষকের বিচারের কোনো সিদ্ধান্ত না এলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর