রংপুর: স্বাধীন বাংলাদেশে আর পরিবারতন্ত্র চলবে না এবং দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করে দেব— এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম।
তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরের শাসন দেখেছি; রাজার ছেলে রাজা হবে এমন সংস্কৃতি আর চলবে না। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নেতা তৈরি হবে, যার কথা ও কাজে মিল থাকবে। এই লক্ষ্য অর্জনে জুলাই জাতীয় সনদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করতে হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আবু সাঈদ চত্বরে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ আয়োজিত ‘হ্যাঁ’ ভোটের গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েমের এই বক্তব্য এসেছে এমন সময়ে যখন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করা, নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত। ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম গত এক মাস ধরে সারাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন, যার মধ্যে সিলেট, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে বড় জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রংপুরের এই জমায়েতে সাদিক কায়েম বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, “জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে শুরু থেকেই জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১টি দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে। অথচ একটি দল গত ১৭ বছর জুলুমের শিকার হওয়া এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করা সত্ত্বেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরব হতে ভয় পাচ্ছে। অনেক তাকিদ দেওয়ার পর সেই দলের মহান নেতা, যিনি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই, এই রংপুরে এসে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলেছেন। তারা বড় বড় সমাবেশ করছে, লক্ষ-কোটি লিফলেট ও হাজার হাজার ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি করছে, কিন্তু সেখানে ‘হ্যাঁ’ কথাটি লিখছে না। তাদের তৃণমূল কর্মীরা এখনো ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে অবস্থান করছে। এই ধরনের দ্বিমুখী নীতি (ডাবল স্ট্যান্ডার্ড) চলবে না।”
গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘হ্যাঁ’ মানে ইনসাফ এবং শহিদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার। ‘হ্যাঁ’ মানে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের প্রথম ভোটটি ‘হ্যাঁ’-তে দেব এবং দ্বিতীয় ভোটটি দেব ইনসাফের পক্ষে। আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, তা নির্ধারণে আমাদের সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে।”
তিনি জুলাই বিপ্লব, শহিদ আবু সাঈদ এবং চার কোটি তরুণ ভোটারের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকার সমালোচনা করে সাদিক বলেন, “জুলাই বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। অথচ তারা বলছেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবেন না। এই ধরনের ‘সুশীলগিরি’ স্বাধীন বাংলাদেশে চলবে না। আপনারা কার নির্দেশে এই নির্দেশনা দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট করতে হবে। দিল্লির দালালরা এখনো দেশে বসে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, কিন্তু আমরা তা সফল হতে দেব না। নির্বাচন কমিশনকে বলব, আপনাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন। দেশের সকল নাগরিক ও সংশ্লিষ্টদের এই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী করতে হবে।”
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যে কফিনে আবু সাঈদের রক্ত ঝরেছে, সেই কফিন বিজয়ী হবে। অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও যোগ্য নেতৃত্ব থাকলে উত্তরবঙ্গ দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি আসন্ন নির্বাচনে ইনসাফের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে তরুণরা ইনসাফের প্রতিনিধিদের বেছে নিয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ১১-দলীয় জোটকে বিজয়ী করবে।’
এই গণজমায়েতে ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু ও জকসুর নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। দিনভর রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় গণভোটের পক্ষে প্রচারে অংশ নেন ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা।