Tuesday 03 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ছাড় দিতে নারাজ বিএনপির বিদ্রোহীরা, সুবিধা পাবে জামায়াত

মো. মহসিন হোসেন স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০২

জামায়াতকে সুযোগ করে দিচ্ছেন বিএনপির বিদ্রোহীরা। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিজয়ী হতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। মূলত নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে জামায়াত মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের। কিন্তু এদের বাইরেও কোথাও কোথাও ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

জানা গেছে, দলীয় প্রার্থীদের ছাড় দিতে নারাজ বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা। সেজন্য তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ফলে অনেক জায়গায় দলটির নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাব ভোটের মাঠে পড়বে ধারণা করা হচ্ছে। আর এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাচ্ছেন প্রতিপক্ষ জামায়াত-এনসিপি-বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশের ৩০০টি নির্বাচনি আসনের মধ্যে ৭৮টি আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত, সাবেক এবং নেতাদের পরিবারের সদস্যরা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। ফলে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। জামায়াত জোটের প্রার্থীরা একে সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপি ও তাদের জোটের শরিক দলের প্রার্থীরা ঝুঁকিতে পড়েছেন। কারণ, সেসব আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তারা মনে করছেন, দল মনোনয়ন না দিলেও এলাকার জনগণ তাকেই নির্বাচিত করবে। এই আত্মবিশ্বাস সামনে রেখে হাইকমান্ডের অনুরোধ উপেক্ষা করে দিনরাত মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

জানা গেছে, প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর ৮২ আসনে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল এমন ৯৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী, নাটোর-১ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী এবং শেরপুর-৩ ও কুমিল্লা-৯ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী ধানের শীষের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যান। আর রংপুর-৩ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন। এ অবস্থায় ৭৮ আসনে এখনও সক্রিয় বিএনপির ৯২ জন বিদ্রোহী। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ায় ৯৮ জনেরই নাম ও প্রতীক ব্যালটে থাকবে।

বিএনপি জোটের এই পরিসংখ্যান মাথায় রেখে নির্বাচনি কৌশল সাজাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এতে তাদের বাড়তি সুবিধা হবে– এ কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করছে না দলটি। তবে দলটির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, নির্বাচনের হিসাব পালটে দিতে পারে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বিশেষ করে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৯৪ আসনে জামায়াত জোটের অবস্থান দুর্বল ছিল। এই দুই বিভাগে পাঁচ-ছয়টির বেশি আসন জয়ের আশা ছিল না। এ দুই বিভাগের ৩৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তাদের বেশ কয়েকটি আসনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এবারের নির্বাচনে জামায়াত ২২৪ আসনে লড়াই করছে। চরমোনাই পীরের সম্মানে বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেয় জামায়াত। বাকি ৭৫ আসনের মধ্যে এনসিপিকে ৩০, মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২৩, খেলাফত মজলিসকে ১৩, এলডিপিকে ছয়টি, এবি পার্টি চারটি, নেজামে ইসলামকে তিনটি, বিডিপিকে দু’টি এবং খেলাফত আন্দোলনকে একটি আসন ছেড়েছে। এ ছাড়া, কিছু আসন উন্মুক্ত রয়েছে; যেখানে একাধিক শরিক দলের প্রার্থী রয়েছেন। এর বাইরেও অনেক আসনে প্রার্থী রয়েছে শরিক দলগুলোর। যেমন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩৩ এবং এবি পার্টি ৩০ আসনে প্রার্থী রেখেছে।

বিএনপি-সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে এমন ৭৯ আসনের ৪৯টিতে জামায়াত সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ১৫টি আসনে আল্লামা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা রিকশা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন। নয়টি আসনে এনসিপির প্রার্থীরা শাপলাকলি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। দেয়ালঘড়ি প্রতীকে ছয়টি আসনে নির্বাচন করছেন খেলাফত মজলিস, বিডিপি, এলডিপি, খেলাফত আন্দোলন ও নেজামে ইসলামের প্রার্থীরা। কয়েকটি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সেগুলোতে জোটের প্রার্থী যেমন আছেন, তেমনি জোটে অন্যদলের প্রার্থীও আছেন।

যেসব আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে

দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাদিক রিয়াজ। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আ.ন.ম. বজলুর রশিদ। এখানে ১১দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা আফজালুল আনাম সুবিধায় আছেন।

দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী একেএম কামারুজ্জামান। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দল থেকে বহিষ্কৃত পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক। এখানে ১১দলের প্রার্থী এনসিপির নেতা ডা. আহাদ।

গাইবান্ধা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়েছেন দলটির জেলা শাখার বহিষ্কৃত সহসভাপতি নাহিদুজ্জামান নিশাদ। এতে সুবিধা হয়েছে জামায়াতের।

নাটোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা শাখার বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক দাউদার মাহমুদ। এতে সুবিধা হয়েছে জামায়াত প্রার্থী সাইদুর রহমানের।

নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি ছালেক চৌধুরী। তিনি নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি।

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর ও বদলগাছী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুল। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী। তিনি মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং প্রয়াত সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে। পারিবারিকভাবে এলাকায় পারভেজ আরেফিনের একটি শক্ত ভোটব্যাংক রয়েছে। ফলে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপির প্রার্থীর জয়ের সমীকরণ জটিল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

নওগাঁ-৬ আসন (রানীনগর ও আত্রাই) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। তিনি পঞ্চম থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলাম।

পাবনা-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তালেব মণ্ডল। বিএনপির প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব। এখানে বিদ্রোহী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনপ্রিয় নেতা জাকারিয়া পিন্টু।

শেরপুর-১ আসনে বিএনপির ডা. সানসিলা জেব্রিন প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দলের জেলা শাখার বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ফলে জামায়াত প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাশেদুল ইসলাম এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন এখানের ভোটাররা।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও ব্যবসায়ী সালমান ওমর রুবেল। এই নেতারও রয়েছে জনপ্রিয়তা।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে ধানের শীষের মোতাহার হোসেন তালুকদার নির্বাচন করছেন। এই আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রয়েছেন মোহাম্মদুল্লাহ। আর বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাহ শহীদ সারওয়ার।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী এম ইকবাল হোসাইন। এই আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরন। জামায়াত জোট থেকে লড়ছেন নেজামে ইসলাম পার্টির আবু তাহের খান। এখানে বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আখতারুল আলমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন একই দলের সাবেক এমপি শামছ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী আখতার সুলতানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে। এখানে জামায়াত প্রার্থী মো. কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আরেক নেতা অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন। সদ্য বহিষ্কৃত এই নেতারও আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফলে ভোট কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে।

ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. মাহাবুবুর রহমান। এখানে বিএনপির সাবেক এমপি আবদুল খালেকের ছেলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। আনোয়ারের বিএনপিতে কোনো পদ না থাকলেও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ তার সঙ্গে কাজ করছেন বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। ফলে দাড়িপাল্লার প্রার্থী আছাদুজ্জামান একক প্রার্থী হিসেবে সুবিধা পাবেন।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। এই নেতাকে পরাজিত করতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির সাবেক এমপি শাহ্ নূরুল কবিরও প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বিএনপির সব পদ থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কয়েক বারের এমপি ফখরুল ইমাম ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির সাবেক এমপি শাহ্ নূরুল কবির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর ভোট কমবে। এখানে ১১দলীয় জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন কর্নেল অলি আহমদের দল এলডিপির আওরঙ্গজেব বেলাল। তিনি ছাতা প্রতীকে লড়বেন।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী। বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি খুররুম খান চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী। এখানে জামায়াত জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশে ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।

ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আখতারুজ্জামান বাচ্চু। এই আসনে তিনিসহ ৮ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিকুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় আলোচনায় এসেছেন। এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দাড়িপাল্লা প্রতীকে লড়বেন মো. ইসমাঈল।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া, হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফ উল্লাহ পাঠান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। তবে বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বতন্ত্র থেকে মাঠে নেমেছেন বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম। এই আসনে বিএনপির ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নেত্রকোনা-৩ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া (দুলাল)। ফলে ১১দলীয় ঐক্যের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর খায়রুল কবির ভাল অবস্থানে রয়েছেন।

মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী তোজাম্মেল হক। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক। তোজাম্মেল হককে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আতা। এখানে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ মনোনীত মুফতি সাইদ নূরকে সমর্থন দিয়ে জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

সিলেট-৫ আসন জমিয়তের উবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলের জেলা শাখার সহসভাপতি মামুনুর রশীদ। এ আসন জামায়াত ছেড়েছে খেলাফত মজলিসকে। বিএনপির ভোট ভাগে সুবিধা হয়েছে দলটির।

সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কায়সার আহমেদের বিরুদ্ধে লড়ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যিনি স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী এই আসনে ‘১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’কে ছাড় দিলে জোটের আরও তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া জোটের অন্যদের জন্য এ আসনটি ‘উন্মুক্ত’ রাখা হলেও জামায়াত তাদের কাউকে সমর্থন দেয়নি।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে লড়ছেন জেলা বিএনপির আরেক সাবেক সহ-সভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। তিনি দলের জেলা কমিটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আসনে ১১দলীয় ঐক্যের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হলেন দলের জেলা কমিটির নায়েবে আমির মো. শামছ উদ্দিন।

মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচবারের মেয়র বহিষ্কৃত বিএনপির নেতা মহসিন মিয়া মধু। এ আসনে প্রার্থী এনসিপির প্রীতম দাশ। সুবিধা পাবেন তিনি।

হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা শাখার বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। এ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিশের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মীরপুরী সুবিধা পাবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে মোহাম্মদ জুনায়েদ আল হাবীবকে। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা। আর ১১দল থেকে এনসিপির আশরাফ উদ্দীন, আছেন জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি জিয়াউল হক মৃধা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি (বহিষ্কৃত) ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। ফলে এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ী হওয়া কঠিন হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ও বিএনপি নেতা মো. সাইদুজ্জামান কামাল বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিকে। এখানে সুবিধায় থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মহসীন।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ মতিন খান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন। এছাড়া তিনি বিএনপিপন্ত্রী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা ছিলেন। সেখান থেকে তাকে দল বহিষ্কার করেছে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন মোল্লা।

কুমিল্লা-৭ আসনে ১১দলীয় ঐক্যের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মো. সোলাইমান। বিএনপির প্রার্থী এলডিপি ছেড়ে দলে যোগ দেওয়া ড. রেদোয়ান আহমেদ। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সভাপতি আতিকুল আলম শাওন।

নোয়াখালী-২ আসনে ১১দলের প্রার্থী এনসিপির সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার। বিএনপির প্রার্থী চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতা কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান।

নোয়াখালী-৬ আসনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানবীর উদ্দিন রাজিব ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ ফজলুল আজিম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এখানে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে মোহাম্মদ মাহবুবের রহমানকে। ফলে নির্বাচন সহজ হয়েছে জামায়াত জোটের সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এই আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাবেক সহসভাপতি মিজানুল হক চৌধুরী ফুটবল প্রতীক নিয়ে ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক ছাতা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষের ভোট তিন ভাগ হবে বিধায় অলি আহমদের ছেলে পিতার আসনে বিজয়ী হবেন এমনটাই ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনে বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী ধানের শীষ ও বিদ্রোহী দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লেয়াকত আলী ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ জহিরুল ইসলামের দাঁড়িপাল্লা সুবিধায় রয়েছে।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন লায়ন হারুনুর রশিদ। বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আ. হান্নান।

বাগেরহাট-১ (চিতলমারী–ফকিরহাট–মোল্লাহাট) আসনে বিএনপির কোপিল কৃষ্ণ মণ্ডল পেয়েছেন ‘ধানের শীষ। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম। অপর বিদ্রোহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মাসুদ রানা। ফলে ১১দলীয় ঐক্যের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মো. মশিউর রহমান খান সুবিধায় আছেন।

বাগেরহাট-২ (সদর–কচুয়া) আসনেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম। এখানে বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। বিএনপির দু’জন মাঠে থাকায় ১১দলীয় ঐক্যের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাগেরহাট-৩ (রামপাল–মোংলা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ ফরিদুল ইসলাম। এখানেও বিএনপির বিদ্রোহী হয়েছে এম এ এইচ সেলিম। তিনি একাই তিনটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ ভাল অবস্থানে রয়েছেন।

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে বিএনপির সোমনাথ দে। ১১দলের প্রার্থী জামায়াতের মো. আব্দুল আলীম। মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান (শিপন)। যাকে দল এরই মধ্যে বহিষ্কার করেছে। এই আসনটিতে ২০০১ সালে জামায়াতের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার বিএনপির বিদ্রোহী থাকায় জামায়াত আবারও আসনটি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পান উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। পরে তাকে বাদ দিয়ে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (একাংশ) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন শহীদ ইকবাল। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় এরই মধ্যে ইকবালকে বহিষ্কার করেছে দল।

নড়াইল-১ আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলটির তিন নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএম নাগিব হোসেন, সুকেশ শাহ আনন্দ ও এসএম সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়া, জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন ওবায়দুল্লাহ কায়সার। বিএনপির মধ্যে থাকা বিভেদকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চান জামায়াত প্রার্থী ওবায়দুল্লাহ কায়সার। দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

নড়াইল-২ বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে এনপিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতা ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। ১১দলীয় প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আতাউর রহমান বাচ্চু দাঁড়িপাল্লা নিয়ে লড়বেন। আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াই হবে। সুবিধায় থাকবে জামায়াত।

বরিশাল- ১ আসনে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন, জামায়াতের কামরুল ইসলাম খান। এই আসনে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সোবহান, বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ বলেই মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, এলাকার পরিচিত মুখ হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান আসনটিতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

পটুয়াখালী-৩ আসন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এখানে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অধ্যাপক শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার উন্নয়ন এবং নৈতিক রাজনীতির পক্ষে কাজ করছেন। ত্রিমুখী লড়াইয়ে জামায়াত প্রার্থী সুবিধা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা-৩ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা কাজী আলাউদ্দিন বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. শহিদুল আলম মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ফুটবল প্রতীক নিয়ে ওই আসনের নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এখানে ১১দলীয় ঐক্যের প্রার্থী জামায়াতের হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার।

গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. কে. এম. বাবর। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির দুই বিদ্রোহী ও সদ্য বহিষ্কৃত নেতা এম. এইচ. খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম। ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন শাইখুল হাদিস মুফতি শুয়াইব ইব্রাহিম।

মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মমিন আলীও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এ আসনেও জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী ভোটের লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন। স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, এই আসনে বিএনপি ও খেলাফত মজলিস সংশ্লিষ্ট প্রার্থী এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দুলাল হোসেন। ১১দলীয় ঐক্যের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হিসেবে সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াস মোল্লা। বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লার মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুরও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম (বহিষ্কৃত), বিদ্রোহী আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন (বহিষ্কৃত), ১১দলীয় ঐক্যের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া। এখানে জামায়াত ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসাইন কাসেমী, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বহিষ্কৃত মোহাম্মদ শাহ আলম, বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন (বহিষ্কৃত) এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিন। আসনটিতে বিএনপি জোট প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী এবং বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি শাহ আলমের সঙ্গে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা, তার বিরুদ্ধে বহিষ্কৃত বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য এবং বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন।

টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির। বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। এখানে ১১দলীয় ঐক্যের জামায়াত সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ১ নম্বর যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার প্রার্থী হয়েছেন।

টাঙ্গাইল-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী আব্দুল হালিম মিঞা (মোটরসাইকেল)।

টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদ। তারা তিনজনই শক্তিশালী প্রার্থী।

টাঙ্গাইল-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আউয়াল লাভলু। বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দলের নির্বাহী কমিটির সভাপতি জুয়েল সরকার (হরিণ)। বিএনপির ভোট তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হতে পারে। এদিকে আওয়ামী লীগের পরিচয় গোপন করে জাতীয় পার্টি-জেপি থেকে প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তারেক শামস খান (বাইসাইকেল)। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (মোরগ)। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফলে এ আসনের আওয়ামী ঘরানার ভোটগুলো তারা দু’জন পেতে পারেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভোটের ভাগাভাগির সুবিধা পেতে পারেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম আব্দুল হামিদ। তিনি ডাক্তার হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিত।

টাঙ্গাইল-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। এর আগে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও এই আসনে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে এই আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল (প্রতীক-হরিণ)। বিএনপি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক এমপি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম সালাউদ্দিন আলমগীরকে দলীয়ভাবে সমর্থন জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের তার জন্য কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ঢাকা-৭ আসন আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। সর্বশেষ এখানে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সোলায়মান সেলিম। তার আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তার বাবা হাজি সেলিম স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী হন। এবারের নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। জোটগত কারণে এনসিপির প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় জামায়াতের প্রার্থী এনায়েত উল্লাহ কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন।

ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি ও সমমনা জোটের প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক লড়ছেন নিজ দলের প্রতীক কোদাল নিয়ে। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহবায়ক, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন জামায়াত ও সমমনা জোটের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন।

ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। আর মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক এমপি এসএ খালেকের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক সাজু। ফলে সুবিধায় রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান)। যিনি আওয়ামী আমলে দীর্ঘদিন গুম ছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম সারাবাংলাকে বলেন, ‘দেশের যেকোনো যোগ্য নাগরিক নির্বাচন করতে পারেন। কাউকে বিএনপির বিদ্রোহী নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই গণ্য করছে জামায়াত জোট। তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় কিছু জায়গায় জামায়াতের সুবিধা হতে পারে। তবে তাদের ভরসায় নয়, জামায়াত নিজের শক্তি এবং জনগণের ভরসায় নির্বাচন করছে।’

বিজ্ঞাপন

বগুড়ায় মহিলা দলের ঝাড়ু মিছিল
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৭

আরো

মো. মহসিন হোসেন - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর