ফরিদপুর: ফরিদপুরে বিভাগীয় নির্বাচনি সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিভাগ বাস্তবায়ন হলে যদি এ অঞ্চলের মানুষের উপকার হয়। তাহলে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফরিদপুর বিভাগ হবে। সিটি করপোরেশন হবে। নদী ভাঙ্গনসহ শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করার লক্ষ্যে অঞ্চলভিত্তিক কল-কারখানা স্থাপন করা হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশে গুরুত্বপূর্ণ ফসল উৎপাদনের কৃষি প্রধান এই অঞ্চলে পাটের ব্যাপক আবাদ হয়ে থাকে। কৃষি ফসল উৎপাদনের গুরুত্ব বিবেচনা করে শুষ্ক মৌসুমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হবে।
তিনি বলেন, দূর থেকে শুনেছি দীর্ঘ ১৭ এ অঞ্চলে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আজ এত সমস্যার কথা শুনে হতাশা হলাম। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ভোটে ধানের শীষের বিজয় হলে দেশ ও মানুষের কল্যাণে বিএনপি নানা উন্নয়নমূলক কাজ করবে। এ জন্য বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫ জেলার বিএনপির প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করতে ভোট চান তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, দেশে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর করব। দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের দুরবস্থার কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার করার কথা জানান তিনি।
এদিকে ভোটের মাঠে জামায়াত ইসলামীকে উদ্দেশ করে বলেন, যারা এখন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরে বন্দি করতে চাই। তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবেন? সেই দল এখনই অসৎ উদ্দেশ্যে ভোটারদের বিকাশ নম্বর, এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করেছে। শুরুতেই অসৎ পথ অবলম্বন করলে তারা নির্বাচিত হলে সৎ এর পথ দেখাবেন কীভাবে? যাদের কর্মকাণ্ডের সমর্থনে ১৯৭১ সালে বহু নারী নির্যাতিত হয়েছিল। তারা আবার ষড়যন্ত্র করছে, গুপ্তরা রূপের পরিবর্তন করে জনগণকে অপমানিত করছে।
এর আগে বরিশাল থেকে হেলিকপ্টারে ফরিদপুর স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করেন তারেক রহমান। ২টা ৫৫ মিনিটে মঞ্চে উঠেন তিনি।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া।
এ সময় ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার ১৫টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।
সকাল থেকেই ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢলে জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। বক্তারা বলেন, এই জনসমাগম প্রমাণ করে জনগণ পরিবর্তন চায়।
শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।
জনসভা শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন পর ফরিদপুরে এমন বড় রাজনৈতিক সমাবেশ নতুন রাজনৈতিক গতি তৈরি করেছে।
নির্বাচনি জনসভার নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ছিল।