যশোর: নির্বাচনি প্রচারে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হওয়া হামলার প্রতিবাদে যশোরের চৌগাছায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে মহিলা জামায়াতের সদস্যসরা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতের চৌগাছা নারী শাখার উদ্যোগে স্থানীয় কামিল মাদরাসা মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ শেষে নারী কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে তারা অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনি প্রচারে নারীদের ওপর হামলা, বিভিন্ন স্থানে বাধা দেওয়া এবং লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। ৩ ফেব্রুয়ারি চৌগাছা উপজেলার ধূলিয়ানী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তারপুর গ্রামের সাধারণ নারীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে হামলার শিকার হন জামায়াতের নারী-কর্মী মোছা. রিংগুন খাতুন, সুমাইয়া বেগম, শাহনাজ খাতুন, দিশা খাতুনসহ ৫/৬ জন।
এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে নারী-কর্মীদের ওপর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক মুক্তারপুর গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে লিয়াকত আলী, শিমুল হোসেন, কবির হোসেনসহ বেশ কয়েকজন হামলা করে। হামলার সময় নারীদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এমনকি সঙ্গে থাকা মোবাইলফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। হামলাকারীরা নারী কর্মীদের নির্বাচনি প্রচারে বাধা দেয় এবং পরবর্তীতে প্রচারে না আসার জন্যও হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিতে অভিযোগ করেছেন হামলার শিকার রিংগুন খাতুন।
এ ছাড়া ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে হাকিমপুর ইউনিয়নের মাঠচাকলা গ্রামে নির্বাচনি প্রচারে গেলে হামলার শিকার হয়েছেন একই গ্রামের নাসরিন খাতুন, রিনা খাতুন, মোছা. নুরজাহান, মোছা. রিনা খাতুন, লিমা খাতুন, নুরজাহান, সুমাইয়া খাতুন ও আল্পনা খাতুন।
হামলাকারীরা হলেন একই গ্রামের শাহাবুদ্দিন, মুকুল ও মন্টু রহমান। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসানের দফতরে এই ঘটনায় আলাদা অভিযোগ দাখিল করেছেন হামলার শিকার নাসরিন খাতুন।
সমাবেশে চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি শাহিনা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ।
তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকেরা আমাদের কর্মীদের ওপর বারবার হামলা করছে। তাদের লাঞ্ছিত করছে, ব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নিচ্ছে। আমরা উভয়পক্ষ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বসে আলাপ-আলোচনা করে এমন ঘটনা পুনরায় ঘটবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও কেন আমার কর্মীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে?’
এরপর এমন ঘটনা ঘটলে ‘আর প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ’র হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ, ঝিকরগাছা উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুল আলীম, চৌগাছা উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা নূরুজ্জামান আল মামুন এবং সহকারী সেক্রেটারি সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান।
চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের সহধর্মিণী নাসরিন ফরিদ, জামায়াতের যশোর-কুষ্টিয়া মহিলা বিভাগের অঞ্চল পরিচালক ফিরোজা ইয়াসমিন বিউটি, যশোর জেলা মহিলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সেলিনা খাতুন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শাহানা আক্তার লাইলি, ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি তহমিনা খাতুন শিখা প্রমুখ।