Thursday 05 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কুষ্টিয়া-২ আসন
বিএনপির শক্ত অবস্থান নড়াতে চায় জামায়াত, মাঠে ইসলামী আন্দোলনও

আল-আমিন খান রাব্বি, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০৬

কুষ্টিয়া-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাগীব রউফ চৌধুরী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মো. আব্দুল। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়া: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক জাগরণ— সবক্ষেত্রেই কুষ্টিয়ার অবদান অনন্য। তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) ১৯৭১ সালে গঠিত হয় বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার। মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়া ছিল দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চলগুলোর একটি।

স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ কুষ্টিয়ায় শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে, যদিও বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলটি এখানকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। তবে, ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ ফের জেলার সব আসনে প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ)। এই পরিস্থিতিতে মাঠ ঘুছিয়ে ফের রাজনীতিতে সরব হয়েছে বিএনপি। সেইসঙ্গে সরব আওয়ামী লীগ আমলে কোণঠাসা হয়ে থাকা জামায়াতে ইসলামীও।

বিজ্ঞাপন

সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত কুষ্টিয়া বাউল সম্রাট লালন ফকির, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন, কাঙাল হরিনাথ ও বিপ্লবী বাঘা যতীনের জন্মভূমি হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত। আশির দশকে কুষ্টিয়া ছিল চরমপন্থী রাজনীতির কেন্দ্র। তবে আজও এই জেলা তার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক মানচিত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

স্বাধীনতার পর থেকে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবদুর রউফ চৌধুরী জয়ী হন। এর পর ১৯৭৯ সালে বিএনপির জিল্লুর রহমান, ১৯৮৬ সালে জামায়াতের আব্দুল ওয়াহেদ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির আহসান হাবিব লিঙ্কন নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার বিএনপির শহিদুল ইসলাম সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু তিনবার এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা কামারুল আরেফিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থানে আছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও হেভিওয়েট প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বিএনপি থেকে লড়বেন। এ ছাড়াও, তিনবারের সাবেক এমপি শহিদুল ইসলামের বাড়ি এ আসনে থাকায় বিএনপিকে মাঠে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অন্যদিকে, ইসলামপন্থীদের ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে কুষ্টিয়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও মিরপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুরও প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। সেইসঙ্গে লড়াইয়ে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (চরমোনাই) মাওলানা মোহাম্মদ আলী, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের বাবুল আক্তার ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নূর উদ্দীন আহমেদ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে। কিন্তু আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনের মাঠে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শক্তিশালী অবস্থান জানান দিচ্ছে জামায়াত। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ ভোটারদের মতে, এবার তারা উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ভোটার সারাবাংলার এই প্রতিনিধিকে বলেন, ‘ভোটে সবাই আসুক, প্রতিযোগিতা হোক। কে ক্ষমতায় আসবে সেটা বড় কথা না, আমরা এমন একজনকে চাই, যিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করবেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট কমাবেন এবং এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন।’

নির্বাচন নিয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। সারাবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে দীর্ঘ ১৬ বছর দেশের জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বর্তমান সরকার যে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আমি এখনো বিশ্বাস করি বাংলাদেশের সব মানুষ নির্বাচনমুখী ও গণতন্ত্রমুখী।’ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল গফুর সারাবাংলাকে বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। আমরা সবাই সুন্দরভাবে নির্বাচনি কাজ চালিয়ে যাব। এখনো পুরোপুরি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি বলে আমাদের মনে হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাই বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।’

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) এই আসনের আয়তন ৩১৭ দশমিক ৩৫ বর্গকিলোমিটার। এই আসনটি মোট ১৯টি ইউনিয়ন এবং দু’টি পৌরসভা নিয়ে গঠতি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭২ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ১২০ জন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর