ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচি শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, শহর এলাকাতেও সমানভাবে জনপ্রিয় এবং কার্যকর একটি উদ্যোগ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬ ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, খাল খননের মাধ্যমে বন্যা ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ; এই তিনটি বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব।
নোয়াখালী অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, হঠাৎ করে যে বিপুল পরিমাণ পানি এসেছিল, তা ১৫ দিনের মধ্যে নেমে গিয়েছিল। যদি সেই পানিকে সংরক্ষণ করার মতো খাল ও জলাধার থাকত, তাহলে তা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা যেত।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের ফলে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। নলকূপ বসাতে আগের চেয়ে অনেক গভীরে বোরিং করতে হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মারাত্মক সংকট তৈরি করতে পারে।
তারেক রহমান আরও বলেন, খাল খননের মাধ্যমে সারফেস ওয়াটার সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির রিচার্জ সম্ভব হবে। এতে আর্সেনিক সমস্যাও ধীরে ধীরে কমে আসবে। কারণ, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে আর্সেনিক উপরের দিকে উঠে আসে, আর পর্যাপ্ত রিচার্জ হলে তা ধীরে ধীরে নিচের দিকে নেমে গিয়ে ডাইলুট হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চীন, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতসহ যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া ও ব্রিটেনসহ মোট ৩৮টি দেশের প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। এ ছাড়া যাযযাদিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমানসহ প্রায় ৬০ জন সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এ ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের সিনিয়র নেতারা ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।